'বাচ্চারা যা চায় ওদের দিও...', অসুস্থ স্ত্রীকে সন্ধ্যায় এই কথাই বলেন কৃষ্ণা,দিশেহারা গোটা পরিবার
News18 বাংলা | ২৫ জুন ২০২৬
তারাতলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকেই একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে অনিশ্চয়তায় জেলার দুই পরিবার, সরকারের কাছে সাহায্যের কাতর আবেদন। তারাতলায় নির্মীয়মাণ বহুতলের ছাদ ভেঙে পড়ায় প্রাণ হারিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার দুই শ্রমিক। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে ভাটপাড়া, শ্যামনগর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যদের হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তাঁদের পরিজনরা। সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা ও চাকরির দাবিতে সরব হয়েছে দুই পরিবারই। মৃতদের মধ্যে একজন কৃষ্ণা চৌধুরী।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পাঁচ মাস ধরে তিনি তারাতলায় একটি সংস্থার অধীনে কাজ করছিলেন। সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বাড়ি থেকে শেষ বেরিয়ে ছিলেন তিনি। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ পরিবারের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয় তাঁর। তখন তিনি স্ত্রীকে বলেন, ‘বাচ্চারা যা চায় তাদের দিও, ওদের জন্যই আমি কাজ করছি।’ সেটাই ছিল পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ যোগাযোগ। কৃষ্ণা চৌধুরীর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী সুচেতা চৌধুরী, দুই ছেলে, এক মেয়ে এবং ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত বৃদ্ধা মা।
পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন কৃষ্ণা। বড় ছেলে নবম শ্রেণিতে, মেয়ে একাদশ শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় কোনও কাজ করতে পারেন না। সংসারের সমস্ত খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং পরিবারের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতেন কৃষ্ণাই। স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন সুচেতা দেবী। চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন, এবার আমাদের কী হবে! সরকার সাহায্য না করলে এই পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারব না।অন্যদিকে, কৃষ্ণার বৃদ্ধা মা সরকারের কাছে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। প্রতিবেশীদের দাবি, পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সরকারের তরফে চাকরির ব্যবস্থা করা হলে কিছুটা হলেও বাঁচবে পরিবারটি। বর্তমানে মেয়ে তিনটি টিউশন পড়িয়ে সংসারে সামান্য সাহায্য করার চেষ্টা করছে।
এদিকে একই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে শ্যামনগরের প্রায় ৪০ বছর বয়সি পাপ্পু কুমার রজকেরও। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র এক মাস আগে ঠিকাদারের মাধ্যমে ওই কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সোমবার সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরোলেও বিকেলের মধ্যেই আসে মৃত্যু সংবাদ। তারাতলা থানা থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসার কথা জানানো হয়। মৃত পাপ্পুর পরিবারের সদস্য অশোক রজক বলেন, এখন এই পরিবারের কী হবে! সরকার আমাদের পাশে দাঁড়াক। পাশাপাশি এই ঘটনার সঠিক তদন্তও হোক।দুর্ঘটনার পর দুই পরিবারের বাড়িতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে পরিবারের সদস্যদের একটাই আবেদন ক্ষতিপূরণ, স্থায়ী সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যেন তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। একইসঙ্গে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তুলেছেন তাঁরা।