• সুস্থ হতে এসে চরম দুর্ভোগের মুখে মঙ্গলকোটের রোগীরা, 'নিজের চোখে' দেখার আবেদন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে
    News18 বাংলা | ২৫ জুন ২০২৬
  • মঙ্গলকোটের মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা কী আজও অধরা স্বপ্ন? সেই প্রশ্নই যেন উঠে এল রাজ্য বিধানসভায়। নিজের এলাকার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির বেহাল অবস্থার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন মঙ্গলকোটের বিধায়ক শিশির ঘোষ। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে এমন এক বাস্তব চিত্র, যা শুধু প্রশাসনের নয়, সাধারণ মানুষেরও উদ্বেগ বাড়ানোর মত।

    বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক বলেন, মঙ্গলকোটের গ্রামীণ হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির বর্তমান অবস্থা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। তিনি স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, একবার যদি তিনি মঙ্গলকোটে এসে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন, তাহলে বাস্তব পরিস্থিতি তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। শিশির ঘোষের কথায়, তিনি নিজে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে যা দেখেছেন, তা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। হাসপাতালের ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ছে, রোগীদের শয্যা পর্যন্ত ভিজে যাচ্ছে।

    কোথাও বিদ্যুতের সমস্যা, কোথাও আবার ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাব। অসুস্থ মানুষ যখন সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালের দ্বারস্থ হন, তখন তাঁদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু সিঙ্গত গ্রামীণ হাসপাতাল নয়, চন্দ্রপুরসহ একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ।

    মঙ্গলকোটের প্রত্যন্ত গ্রামের বহু মানুষ আজও সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল। তাই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির এই অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপনের পর এখন প্রশ্ন একটাই, এলাকার মানুষের এই দুর্ভোগ লাঘবে আদৌ কি দ্রুত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে? স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে কি দেখা যাবে কার্যকর উদ্যোগ? সেই উত্তরই খুঁজছেন মঙ্গলকোটের হাজার হাজার মানুষ।
  • Link to this news (News18 বাংলা)