সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে রাজগঞ্জে সাড়ম্বরে চলছে অম্বুবাচীতে ‘মা আমাতি’-র পুজো
News18 বাংলা | ২৫ জুন ২০২৬
: অম্বুবাচীর ছোঁয়ায় গ্রামবাংলা! কচিকাঁচাদের ‘আমাতি পুজো’য় ফিরছে হারানো শৈশবের ছবি। অম্বুবাচী মানেই শুধু ধর্মীয় আচার নয়, গ্রামবাংলার মাটির গন্ধমাখা এক গভীর লোকঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ। জলপাইগুড়ির গ্রামাঞ্চলে সেই চিরচেনা ছবিই যেন আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে কচিকাঁচাদের ‘আমাতি পুজো’-কে ঘিরে।
গ্রামের পথ ধরে হাঁটলেই চোখে পড়ছে এক অনন্য দৃশ্য রাস্তার ধারে কলাগাছ পুঁতে তার গোড়ায় মাটি লেপে ছোট্ট পুজোর আসর সাজিয়েছে শিশুরা। স্থানীয় ভাষায় এই পুজো ‘আমাতি পুজো’ নামে পরিচিত, যা অম্বুবাচীর সময় বিশেষভাবে পালন করা হয়। নেই জাঁকজমক, নেই বড় আয়োজন তবুও আন্তরিকতা আর আনন্দে ভরপুর এই পুজো। পথচলতি মানুষজনও এই উৎসবের অংশীদার। কেউ খেজুর, কেউ বা লটকা তুলে দিচ্ছেন ছোট্ট হাতগুলোর মুঠোয়। সেই ফল দিয়েই সম্পন্ন হচ্ছে ‘মা আমাতি ঠাকুর’-এর পুজো। পরে সেই ফলই প্রসাদ হিসেবে ভাগ করে নিচ্ছে শিশুরা মুখে হাসি, চোখে আনন্দের ঝিলিক।
এবিষয়ে লেখক উমেশ শর্মা বলেন, এই জনপদ কামরূপের একটি ত্রিকোণাকার জনপদ। বছরের প্রথম বর্ষার এই সময়ে মা বসুন্ধরা রজঃস্বলা হন। সাপের বংশবৃদ্ধি হয়। অনেক সাধু সন্যাসীগণ আসেন কামাখ্যায়। আর তারই ছোট সংস্করণ হিসেবে এই পুজো করা হয়। সমস্ত ধর্ম নির্বিশেষে কচিকাঁচারা অংশ গ্রহণ করেন। প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয় লটকন, খেজুর। এই ছোট্ট আয়োজন ঘিরেই তৈরি হচ্ছে এক অন্যরকম উৎসবের আবহ। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বাজার-সহ বিভিন্ন গ্রামীণ হাটে বেড়েছে খেজুর ও লটকার চাহিদা। বিক্রেতাদের দাবি, প্রতি বছরই অম্বুবাচীর সময় এই ফলের বিক্রি বাড়ে। বর্তমানে লটকন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩০ টাকা কেজি দরে, আর খেজুরের ছোট জোকা মিলছে ১০ টাকায়।
লোকসংস্কৃতির এই সহজ সরল রূপ আজও গ্রামবাংলার সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতির প্রতীক। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া শৈশবের সেই নির্ভেজাল আনন্দ যেন আবার ফিরে আসছে ‘আমাতি পুজো’র মাধ্যমে। অম্বুবাচীর এই চিত্র আমাদের শিকড়ের গল্প যা আজও মাটির টানে বেঁচে আছে।