অভাবের সঙ্গে লড়াই করা ছেলে আজ দেশের পাহারাদার, সেনার উর্দিতে দেখে চোখে জল বাবা-মায়ের
News18 বাংলা | ২৫ জুন ২০২৬
জঙ্গলমহলে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে দেশের হয়ে লড়াই করা, দেশের সুরক্ষার জন্য এগিয়ে আসা। দারিদ্র্যকে সঙ্গী করেই দেশের সুরক্ষার ব্রত নিলেন গোপীবল্লভপুরের রাহুল মাহাতো। অভাব-অনটনের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অগ্নিবীর’ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন তিনি। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ভারতীয় সেনায় যোগদানের পর সম্প্রতি প্রশিক্ষণ শেষে প্রথমবার সেনার পোশাকে নিজের গ্রাম লাদনগেড়িয়ায় পা রাখতেই আবেগের জোয়ার বইল গোটা এলাকায়। বেলিয়াবেড়া থানার অন্তর্গত খাড়বান্দী অঞ্চলের এই প্রত্যন্ত গ্রামে এখন গর্বের হাওয়া।
ঘরের ছেলেকে সেনার পোশাকে কাছে পেয়ে চোখের জলে বাবা সঞ্জয় মাহাতো ও মা অনুপমা মাহাতোর। সাফল্যের এই যাত্রাপথ রাহুলের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বাবা-মা দুজনে মিলে ছোট্ট একটি হোটেল চালান। সেই হোটেলের সামান্য আয় আর পরিবারের অভাবের সংসারে দিন কাটত রাহুলদের। বাবা-মায়ের পাশাপাশি দাদু-ঠাকুমা, কাকা-কাকিমা ও ভাইকে নিয়ে যৌথ পরিবার। হোটেলের সেই হাড়ভাঙা খাটুনির মাঝেও ছেলের পড়াশোনার জেদ ছিল বাবা-মায়ের অটুট। সেই স্বপ্নকে সম্বল করেই খাড়বান্দী হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে রাহুল।
অভাবকে কখনও সাফল্যের পথে পাঁচিল হতে দেয়নি সে। নিজের লক্ষ্য পূরণে সে অটল থেকেছে সবসময়। দীর্ঘ কড়া অনুশাসনের প্রশিক্ষণ শেষে আপাতত পোস্টিংয়ের অপেক্ষায় রাহুল। তবে নিজের কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আগে কয়েকটা দিন বাবা-মায়ের আদরে আর গ্রামের মানুষের ভালবাসার উষ্ণতায় কাটবে তার। দরিদ্র হোটেলের ছেলে থেকে দেশের পাহারাদার হয়ে ওঠার এই লড়াই গোপীবল্লভপুরের বহু তরুণের কাছে আজ অনুপ্রেরণার নাম। জঙ্গলমহলের মাটির বুক থেকে উঠে আসা এই তরুণ নিজের সাফল্যের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিলেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে দারিদ্র্য কখনওই স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যবস্থায় ৪ বছরের অগ্নিবীর নিয়োগ করা হয়। ১ মাস থেকে ৩ মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ হয়। ২১ বছরের মধ্যে বয়স হতে হয়। দশম শ্রেণীতে বা মাধ্যমিকে ৪৫% নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং প্রতিটি বিষয়ে প্রায় ৩৩% নাম্বার থাকা প্রয়োজন। অফিসের ওয়েবসাইট থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অনলাইন মাধ্যমে আবেদন জানালে ফিটনেস পরীক্ষা এবং একাধিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অগ্নিবের নিয়োগ করা হয়। রাহুলের এই সাফল্যে এখন আপ্লুত তার আত্মীয়-পরিজন থেকে শুরু করে প্রতিবেশীরাও। গোটা গ্রামের কাছে রাহুল এখন গর্বের প্রতীক। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, রাহুল আগামী দিনে দেশের সুরক্ষায় আরও বড় সাফল্যের নজির গড়বে।