• রাখে উপরওয়ালা মারে কে! নীলা বলছেন, ‘ভাগ্যিস বুধবার যাইনি! গেলে…’
    এই সময় | ২৫ জুন ২০২৬
  • সাপ্তাহিক কর্মদিবসের তৃতীয় দিন। বেলা তখন বেলা ১২টা ৭ মিনিট। জোরালো আওয়াজে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। ভূমিকম্প হলো? অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন। ততক্ষণে ঘটে গিয়েছে কলকাতার ইতিহাসে অন্যতম বড় বিপর্যয়। বিশালাকৃতি স্ট্রাকচারের তলায় চাপা পড়ে যাওয়ার আর্তনাদে তখন চারিদিকে থমথমে পরিবেশ। দিকভ্রান্ত হয়ে ছুটে চলেছেন আশেপাশের লোকজন। কেউ ওই গোডাউনের কাজের সঙ্গে যুক্ত, কেউ পরিচিত শ্রমিকের সঙ্গে সেই মুহূর্তেই ওই স্থানে গিয়েছিলেন। কাউকে মরতে হয়েছে, কারও যমে-মানুষে টানাটানি চলছে হাসপাতালে। তার মাঝেই ব্যতিক্রমী হয়ে রইলেন নীলা দেবী।

    নীলা খিদিরপুরের হাইড রোড এলাকার বাসিন্দা। তারাতলার ওই গোডাউনে জল দেওয়ার কাজ করতেন। গত সাত-আট মাস ধরে ওই অভিশপ্ত গোডাউনে ছিল নিয়মিত যাতায়াত। কালই সেই অভ্যাসের রদবদল ঘটে। নিজের কিছু কাজ থাকায় ওই গোডাউনে জল সরবরাহ করার জন্য পাঠিয়েছিলেন বোদন মুন্ডা নামে তাঁর এক সহকর্মীকে। পরিণতি ভয়াবহ। গুরুতর জখম অবস্থায় বোদন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ভাগ্যের পরিহাসে আজ তিনি চিকিৎসাধীন।

    নীলা বলেন, ‘কাল যদি আমি কাজ করতে যেতাম, আমাকেও হয়তো আজ হাসপাতালে শুয়ে থাকতে হতো। ভাগ্যের জন্য আমি আজ বেঁচে গেলাম।’ বিভিন্ন অফিস, কাজের জায়গায় জল সরবরাহের কাজ করেন নীলা দেবী। রোজ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা উপার্জন। পেটের দায়ে কাজ করতে হয়। নীলা জানান, আগে থেকেই নাকি ওই গোডাউনের ছাদ কাঁপত। বিপদের সংকেত মিলেছিল আগেই? ঝুঁকি নিয়েই সেই গোডাউনে যেতেন নীলা।

    উল্লেখ্য, তারাতলায় বেহরা ব্রাদার্সের নির্মীয়মাণ গোডাউনের কাঠামো ভেঙে পড়ে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মোট ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মোট ১৯ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ওই কোম্পানির মালিক-সহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

  • Link to this news (এই সময়)