আজকাল ওয়েবডেস্ক: তারাতলা ট্র্যাজিক। শুভেন্দু সরকারের দু'মাসের মাথায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘটনার ঠিক পরের দিনেই, বিধানসভায় যেমন ঘটনার বিবরণ, ক্ষতিপূরণ, সকলের তৎপরতার খতিয়ান তুলে ধরলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তেমনই নিশানা করলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেও। আর তার মাঝেই উঠে এল আরও এক নাম, 'কালী'। তাঁর নামের সঙ্গেই জুড়ে গেল অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের নাম। তারপর থেকেই জোর গুঞ্জন, কে এই কালী?
এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'কেএমসি-তে কী হয়েছে আমরা জানি না? কালীকে ধরলে সব বেরিয়ে যাবে। কলকাতা কর্পোরেশনে কালী না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। আর কালী আপয়েন্টেড বাই ক্যামাক স্ট্রিট, সবাই জানে। আর এই কালী, বাইপাসের পাশে আপনাদের তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে। এখান থেকে টাকাটা তুলে, ওখানে পাঠায়। আমরা সব জানি।'
কে এই কালী? সূত্রের তথ্য, এই কালীর পুরো নাম কালীচরণ ব্যানার্জি। প্রথমে ভূম রাজস্ব দপ্তর, তারপর পুলিশ এবং আবার ফিরে ভূমি রাজস্ব দপ্তরে আসেন তিনই। ২০১০ সাল থেকে পুরসভায় কাজ শুরু করেন তিনই। এক সময়ে ফিরহাদ হাকিমের আপ্ত সহায়ক পদেও ছিলেন বলে জানা যায়। তথ্য, ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পুরসভার মেয়র হওয়ার পর, কালী হন তাঁর ওএসডি। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও অভিষেক ব্যানার্জির নাম ভাঙিয়ে দাপট দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা যায়।
২০২৪ সালে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তৎকালীন ওএসডি (OSD)-র বিরুদ্ধে শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল শ্রী অভিষেক ব্যানার্জির অফিসই।
অভিযোগ ছিল, অভিষেকের নামের অপব্যবহার করা এবং সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করার। ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ এর ওই অভিযোগ দায়ের হয়। এবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল তাঁর নাম।
উল্লেখ্য, নজর ছিল, তারাতলা কাণ্ডে রাজ্য সরকার আহত-আহতদের সহায়তায় অর্থ সাহায্য করে কিনা সেদিকে। যদিও বিধানসভায় এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানালেন, অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। সঙ্গেই তিনই জানালেন, 'অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না, এটা স্বীকার করেও দায়িত্বশীল সরকার তার দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।' মৃতদের পরিবারকে দশ লক্ষ করে এবং আহতদের এক লক্ষ করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।