• নেতারা তো ফোনই ধরছেন না, জেলায় জেলায় তৃণমূলের নিচুতলায় কী হাল? স্পেশাল রিপোর্ট
    আজ তক | ২৫ জুন ২০২৬
  • সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর সহ কেষ্টবিষ্টুদের তো খবর আসছে। কেউ দল বদল করছেন। কেউ ইস্তফা দিচ্ছেন। কেউ শিবির বদলাচ্ছেন। কেউ পলাতক। কাউকে গ্রেফতার। ডিম থেরাপি চলছে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের তৃণমূল স্তরের নেতা, কর্মীদের কী খবর? কয়েকটি জেলায় খোঁজ নিয়ে যা জানা গেল, তার নির্যাস হল, তৃণমূল কংগ্রেসের একদম নিচুতলার কর্মীরা দিশেহারা। নেতারা ফোন ধরছেন না।

    জেলায় আপাতত সংগঠন কেউ করছে না

    bangla.aajtak.in-এ কয়েকটি জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলল। জানার চেষ্টা করল, তৃণমূল কর্মী ও একদম নীচুস্তরের নেতাদের কী হালহকিকত। যেমন নদিয়া। এই জেলার বেশ পরিচিত ও দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা সাফ জানালেন, নদিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক হাল ভোটের রেজাল্টই বলে দিয়েছে। তাঁর কথায়, 'গোটা জেলায় থ্রেট কালচার তৈরি করা হয়েছিল। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া ও প্রতাপ নায়েক নামে এক ব্যক্তিকে টাকা তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ক্যামাক স্ট্রিট অফিস থেকে। এই প্রতাপ নায়েকের মা অভিষেকের মা-বাবার বাড়িতে রান্না করতেন। তাকেই দায়িত্ব দেওয়া হল।' চাকদা এলাকার তৃণমূল নেতা শঙ্কর সিং,যিশু সিংরাও বেপাত্তা। জেলায় আপাতত সংগঠন কেউ করছে না। কর্মীরা দিশেহারা, জানালেন ওই প্রবীণ নেতা। 

    'তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়'

    এ বার আসা যাক উত্তর ২৪ পরগনার কী হাল? এই জেলায় তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি নির্মল ঘোষ জানালেন, তিনি কর্মীদের পাশে আছেন। তাঁর কথায়, 'আমার বেসিক কাজ হল, দলের যারা সত্‍ কর্মীদের সামনে আনা।' জেলায় কি দলে ভাঙন দেখা দিয়েছে? শুনেই ওই নেতা বললেন, 'তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য কেউ নন। সবাই মমতাপন্থী।'

    ব্লকস্তরের নেতারা চাপে আছেন

    পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সাদ্দাম হোসেন জানালেন, তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পদাধিকারীরাই মূলত ঝামেলায় রয়েছেন। কর্মীরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন। তাঁদের বিচ্যুতি ঘটেনি। সাদ্দামের কথায়, 'তৃণমূল কংগ্রেসের পদাধিকারীরাই এদিক ওদিক চলে যাচ্ছেন। ব্লকস্তর পর্যন্ত নেতারা চাপে আছেন। প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে কিছু এলাকায় আমাদের সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। দেখুন, ঋতব্রতকে আমরা চিনি না। কর্মীরাও চেনে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কিছু নেতা খোঁজও নিচ্ছেন। দলের কর্মীরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন। যা কিছু এদিক ওদিক করছেন, সব পদাধিকারী নেতারাই।'

    নেতারা ফোনই ধরছেন না

    উত্তরবঙ্গের জেলা কোচবিহারে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, নেতারা কর্মীদের ফোনই ধরছেন না। তার ফলে কর্মীরা দিশাহারা। কোচবিহারের তৃণমূলের প্রাক্তন যুবনেতা রাহুল রায়ের কথায়, 'ব্লকে, গ্রামে পঞ্চায়েত স্তরে নেতারা কর্মীদের ফোন ধরছেন না। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও রাখছেন না। বেশির ভাগ নেতাই কোচবিহার ছাড়া। কর্মীরা কিছু কিছু জায়গায় শেল্টারের জন্য স্থানীয় ভাবে অ্যাডজাস্ট করছেন। আসলে নেতারাই শেল্টারের খোঁজে, কর্মীদের শেল্টার দেওয়ার কেউ নেই। জেলা, ব্লকস্তরে অনেক নেতাকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। কর্মীদের কারও কাছেই কিছু স্পষ্ট নয়।'

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার হালও তথৈবচ।  জেলার এক তৃণমূল নেতার কথায়, 'সব কমিটি তো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কে কোন পদে আছে, তাও জানি না। সবচেয়ে বেশি বিপদে কর্মীরাই। অনেকে নিজেদের মতো করে অ্যাডজাস্ট করে থাকছেন। ব্লক স্তরের অনেক নেতারই কোনও খোঁজ নেই। এমনকী যাঁরা আগে নেতৃত্ব দিতেন, তাঁরাও ফোন ধরছেন না। তৃণমূলে অনেক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল। দলের উপরস্তরে এত ভাঙন যে আমরা বুঝতেই পারছি না, কীভাবে সামাল দেব। তবে এটুকু বলতে পারি, কর্মী ও একদম নীচুস্তরের নেতারা এখনও দিদির পাশেই। কেউ যদি অন্য শিবিরে যায়, সেটা তার ব্যাপার। দেখুন, শান্তিতে বসবাস করতে কে না চায়!'
  • Link to this news (আজ তক)