কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই পাকিস্তানে ঢুকে পড়ল ভারতের বিমান। পাকিস্তানের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সতর্কবার্তার পর এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি দিল্লি ফিরে এলেও, এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে ভারত সরকার। গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত পাইলটকে ডিউটি রস্টার থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিসিএ-র তরফে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার ও তার সদস্যদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চলেছে।
সোমবার এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি দিল্লি থেকে অমৃতসরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু অমৃতসর বিমানবন্দরে অবতরণের সময়ই ঘটে বিপত্তি। ‘ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা’ অনুযায়ী, উড়ানটি আটারির কাছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত সামান্য অতিক্রম করে পাকিস্তানে প্রবেশ করে ফেলে। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি ফের ভারতের আকাশে ফিরে আসে। জানা গিয়েছে, দু’মিনিটের কম সময় উড়ানটি পাকিস্তানের আকাশসীমায় ছিল। সেখান থেকে সতর্কবার্তা আসার পর অমৃতসরে নামার ঝুঁকি না নিয়ে দিল্লিতেই ফেরে বিমানটি। এরপর দিল্লি থেকে ফের রওনা দিয়ে রাত ২টো ২০ নাগাদ অমৃতসরে অবতরণ করে বিমানটি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, রাত ৯টা ১৮ মিনিটে দিল্লি থেকে উড়েছিল বিমানটি। এক ঘণ্টার মধ্যে অমৃতসরে অবতরণের কথা ছিল। তবে বিমানটির নেভিগেশন সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি পথ হারিয়ে ফেলে। বিমানবন্দরের আধিকারিক ভূপেন্দ্র সিংয়ের মতে, বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমার প্রায় দেড় মাইল ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। এই ঘটনাকে সামান্য ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি বলেন, এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে, পাকিস্তান থেকে ফেরার পথে বিমানটিকে অমৃতসরে কেন থামানো হয়নি, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফেরার পথে বিমানটি স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল না। তাই সেটিকে ফেরত পাঠানো হয়।
বিমানবন্দর আধিকারিকদের মতে, পাইলটকে ভারতের আকাশসীমার অনেকটা ভিতরে ১৩ ডিএমই (ডিস্টেন্স মেজারিং ইকুইপমেন্ট) পয়েন্টের ওপর চক্কর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাইলট বিমানটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যান এবং এরপর বাম দিকে মোড় নেন, যার ফলে বিমানটি পাকিস্তানে প্রবেশ করে। এই ঘটনার পর বিমান সংস্থার তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পাইলটকে ডিউটি রস্টার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ডিজিসিএ-র তরফে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার ও তার সদস্যদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চলেছে।