• খুনের আগের দিন ক্যাফেতে বসে ব্লুপ্রিন্ট সাজায় সিয়া ও তাঁর প্রেমিক! প্রকাশ্যে সিসিটিভি ফুটেজ
    প্রতিদিন | ২৫ জুন ২০২৬
  • পুনের তরুণ ব্যবসায়ী কেতন বিশাল আগরওয়াল খুনের তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে পুলিশের দাবি, খুনের আগের দিন প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে একটি ক্যাফেতে দেখা করেন সিয়া গোয়েল। অনুমান করা হচ্ছে, এখানে বসেই প্রেমিকের সঙ্গে মিলে হবু স্বামী কেতনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলার ব্লুপ্রিন্ট সাজান সিয়া। সেই মতো পরদিন পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে খুন করা হয় কেতন আগরওয়ালকে।

    পুলিশের দাবি অনুযায়ী, যে সিসিটিভি ফুটেজটি সামনে এসেছে, তা হত্যাকাণ্ডের ঠিক একদিন আগের। সেখানে দেখা গিয়েছে, সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরী ‘থার্ড ওয়েভ’ নামের একটি ক্যাফেতে দেখা করেন এবং সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা তাঁরা কথা বলেন। প্রাথমিক সিসিটিভি ফুটেজে দুজনকে ক্যাফের গেট দিয়ে ঢুকতে দেখা যায়। সিয়ার পরনে ছিল জিন্স টপ, আর চেতনের পরনে ছিল টি-শার্ট ও জিন্স। সিয়া ও চেতন ক্যাফের ভিড় থেকে দূরে একটি খোলা জায়গায় বসে বলছেন। দু’জনের একেবারে মুখোমুখি ছিল যাতে তাঁদের কথোপকথন আশপাশের কেউ শুনতে না পায়। পুলিশের দাবি, দু’জনের শরীরী ভাষায় স্পষ্ট যে তাঁরা অতি গোপন কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। মনে করা হচ্ছে এখানেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন কীভাবে কেতন আগরওয়ালকে হত্যা করা হবে। এরপর দিনই ঘটে হত্যার ঘটনা।

    উল্লেখ্য, পুণের লোহাগড় দুর্গে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে হবু স্বামী কেতনকে খুনে অভিযুক্ত বাগদত্তা সিয়া এবং প্রেমিক চেতন চোধুরী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে গোটা দেশ। ৩৫০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে মৃত্যু হয় কেতনের। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, পা ফস্কে পড়ে গিয়ে কেতনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তদন্তে অগ্রগতি হলে ধীরে ধীরে সন্দেহের তির গিয়ে পড়ে কেতনের বাগদত্তা সিয়ার উপর। কারণ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তরুণীর বয়ানে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ৩৫০ ফুট নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দু’জনের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, কেতনের খুনকে নিছক দুর্ঘটনা বলে সাজানোর পরিকল্পনা ছিল সিয়া এবং তাঁর প্রেমিকের। তদন্তকারীদের চোখে ধুলো দেওয়ারও চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

    কীভাবে এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ? আসলে তদন্তের সূত্রে লোহাগড়ের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। তখনই তাঁদের মাথা ঘুরে যায়। ফাঁস হয়ে যায় সব ষড়যন্ত্র। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কেতন এবং সিয়ার গাড়ি অনুসরণ করছেন এক যুবক। তাঁর গতিবিধি যথেষ্ট সন্দেহজনক ছিল। চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, জুন মাসের ভ্যাপসা গরম, বাইরে যখন তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তখন ওই যুবকের পরনে ছিল হুডি। এত গরমে কেন তিনি হুডি পরেছিলেন? তা ভাবিয়ে তোলে তদন্তকারীদের। সেখান থেকেই তদন্তের মোড় ঘোরে।

    যেখানে কেতনের মৃত্যু হয়েছিল, সেই এলাকার আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়েন ওই যুবক। তখনই পুলিশের সন্দেহ আরও গভীর হয়। সিয়ার সঙ্গে যে ওই যুবকের কোনও যোগ রয়েছে, তা স্পষ্ট হতে শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে সিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি তদন্তকারীদের দাবি অস্বীকার করেন কিন্তু পরে চাপের মুখে ভেঙে পড়েন তরুণী। স্বীকার করে নেন খুনের কথা। তখনই জানা যায়, ওই যুবক আর কেউ নন চেতন। এরপর সিয়ার মোবাইল ফোনের রেকর্ড, সমাজমাধ্যমের পোস্ট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে তাঁর সঙ্গে চেতনের সম্পর্কের কথাও প্রকাশ্যে আসে। উল্লেখ্য, আগামী নভেম্বরে বিয়ের কথা ছিল সিয়া-কেতনের। তার জন্য ১৭ কোটি টাকা দিয়ে প্রাসাদও বুক করা হয়েছিল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)