• ‘দরজা খুলেছি বলে অপমান করছিল, মেরে দিয়েছি’, চলন্ত লোকালে কুপিয়ে হত্যার পরও নির্বিকার খুনি!
    প্রতিদিন | ২৫ জুন ২০২৬
  • দরজা বন্ধ করতে বলায় অপমানিত লেগেছিল। সেই রাগেই সহযাত্রীকে নৃশংসভাবে খুন! মুম্বইয়ে চলন্ত লোকালে হত্যাকাণ্ডে প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত সোমবার মুম্বইয়ের চার্চগেট-নাল্লাসোপারা ফাস্ট লোকালে দুই যাত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। তারপর মায়াঙ্ক রমেশ লোহার নামে এক যাত্রীকে কুপিয়ে খুন করেন রোশান সুবর্ণ, এমনটাই অভিযোগ। জেরার মুখে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন রোশন।

    বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রোশনকে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি জানান, ট্রেনে ওঠার পরে দরজার কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন মায়াঙ্কও। সেসময়েই দু’জনের মধ্যে ঝামেলা বেঁধে যায়। বচসা শুরু হয়, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে কামরার দরজা বন্ধ করা হবে কিনা সেই নিয়ে। রোশন জানান, বৃষ্টির মধ্যে দরজা বন্ধ করেছেন বলে তাঁকে কথা শুনিয়ে দেন মায়াঙ্ক। গোটা ঘটনায় অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেন। সেই রাগেই পকেট থেকে ছুরি বের করে কোপ দিতে থাকেন মায়াঙ্ককে।

    কামরায় অন্য সহযাত্রীরা গোটা ঘটনা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মায়াঙ্ককে হত্যার পর ছুরি উঁচিয়ে তাঁদেরও ভয় দেখান রোশন। তারপর ট্রেনটি বোরিভেলি স্টেশন পৌঁছতেই লাফিয়ে বেরিয়ে যান। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ঢোকার পর কামরা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় মায়াঙ্কের দেহ। আরপিএফ, জিআরপি, চিকিৎসকরা কামরা থেকে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যান মেডিক্যাল রুমে। কিন্তু সেখানে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয়েছে মায়াঙ্কের।

    জানা গিয়েছে, খুনের পর কর্নাটকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন রোশন। পানভেল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় ট্রেনে উঠেছিলেন রোশন। ট্রেন ধরার আগে এক অটোচালকের সঙ্গেও বচসা করেন তিনি। তবে অতীতে কোনও অপরাধের ইতিহাস নেই রোশনের। যে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করেছেন, সেটাও এখনও উদ্ধার হয়নি। উল্লেখ্য, চলন্ত ট্রেনের মধ্যে এইভাবে হামলার ফলে প্রশ্ন উঠছে লোকালের নিরাপত্তা নিয়েও। পশ্চিম রেলের কর্তারাও নড়েচড়ে বসেছেন এই ঘটনার পর। জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)