সৌজন্যে ভারতীয় সেনা, মাত্র পাঁচদিনেই খুলল দুধিয়া সেতু, স্বাভাবিক শিলিগুড়ি-মিরিক
প্রতিদিন | ২৫ জুন ২০২৬
বালাসন নদীর জলে অস্থায়ী দুধিয়া সেতু ভেসে যাওয়ার পাঁচদিন পর সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পসের উদ্যোগে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে যোগাযোগ স্বাভাবিক হল। মঙ্গলবার সকাল থেকে সেতু তৈরির কাজ শুরু করে সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পসের সুকনা ৩৩ কোরের ৫ ইঞ্জিনিয়ারিং রেজিমেন্ট। বুধবার খুলে দেওয়া হয় স্টেট হাইওয়ে ১২-র উপর নির্মিত বেইলি ব্রিজ। আপাতত যান চলাচল না করলেও সেনাবাহিনীর তৈরি ৩৪ মিটার দীর্ঘ ফুটব্রিজ দিয়ে নিরাপদে হেঁটে নদী পারাপার করতে পারবেন সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে পাহাড়-সমতলে অতিভারী বৃষ্টিতে বালাসন নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। জলের তীব্র স্রোত হিউমপাইপের অস্থায়ী সেতুর একাংশ ভেঙে নিয়ে চলে যায়। শুক্রবার ভোর থেকে দুধিয়া হয়ে ১২ নম্বর রাজ্য সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। সড়ক পথে শিলিগুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মিরিক। এরপরই রাজ্যের তরফে সেনাবাহিনীর কাছে বেইলি ব্রিজ তৈরির আবেদন করা হয়। শনিবার ও রবিবার সেনা আধিকারিকরা দুধিয়ায় বিভিন্নভাবে মাপজোখ করেন। রবিবার দুপুরে দার্জিলিংয়ে জেলা শাসক হরিশংকর পানিক্কার এবং সেনা আধিকারিকরা একসঙ্গে এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। মঙ্গলবার সকালে বেইলি ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু করে সেনাবাহিনী। আবহাওয়া ভালো থাকায় রাতের মধ্যে কাজ শেষ হয়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, হেঁটে পারাপারের জন্য হিউমপাইপের সেতুর উপর বেইলি ব্রিজটি তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে শিলিগুড়ি থেকে দুধিয়ায় (Dudhia Bridge) পৌঁছে হেঁটে সেতু পার হয়ে ওপায়ে অন্য গাড়িতে চেপে মিরিক অথবা নেপাল সীমান্তের পশুপতি ফটকে যাতায়াত করতে হবে। একইসঙ্গে যান চলাচলের জন্য একটি চওড়া বেইলি ব্রিজ তৈরির কাজও শুরু করেছে সেনাবাহিনী।
দার্জিলিংর সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, “সেনাবাহিনী খুব দ্রুত দুধিয়ায় ৩৪ মিটার দীর্ঘ অস্থায়ী বেইলি ব্রিজ তৈরি করেছে। সেতুটি স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি কমাবে।” প্রসঙ্গত গত বছরের ৪ অক্টোবর বালাসনের হড়পা বানে দুধিয়া পুরনো লোহার সেতু ভেঙে যাওয়ায় শিলিগুড়ি থেকে দুধিয়া হয়ে মিরিকে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পূর্ত দফতর অস্থায়ীভাবে হিউমপাইপ বসিয়ে সেতু তৈরি করে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার পাহাড়ে ভারী বৃষ্টির জেরে সেই হিউমপাইপের সেতুর বেশ কিছুটা অংশ ভেসে যায়। তার জেরে শুক্রবার ভোর থেকে দুধিয়া হয়ে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ ফের স্তব্ধ হয়ে যায়।