তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা, বিধানসভায় দুর্ঘটনার বিবরণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
প্রতিদিন | ২৫ জুন ২০২৬
তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবার প্রতি রাজ্যের তরফে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বিধানসভায় গোটা দুর্ঘটনার বিবরণ দেন তিনি। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন। এছাড়া আহতদের দেওয়া হবে ১ লক্ষ টাকা।
চারিদিক যেন ধ্বংসস্তূপ! তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে (Taratala Godown Collapse) ছড়িয়েছে রয়েছে লোহার বিম, সিমেন্টের চাঙড়। বুধবার রাতভর উদ্ধারকার্যের পর বৃহস্পতিবার সকালেও চলছে ‘অপারেশন’। সকালে ৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদিন বেলা ১১ টায় বিপর্যয় নিয়ে বিধানসভায় বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমের মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করে পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি। আহতদের উদ্দেশে বলেন, “সরকার আপনার পাশে আছে।” এরপরই বুধবার দুপুর থেকে ঠিক কী কী ঘটেছে তা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “দুর্ঘটনার তিরিশ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। কলকাতা পুলিশ, দমকল ও স্থানীয়রা প্রথমে কাজে হাত লাগান। এরপর এনডিআরএফ, আর্মি যায়। বুধবার রাতভর কাজ চলেছে। এখনও কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম যান ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এরপর পৌঁছন দমকল মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা। আমি প্রথম থেকেই মনিটরিং করছিলাম। তবে গেলে উদ্ধারকাজে বাধা তৈরি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর বিকেলে যাই। হাসপাতালেও গিয়েছি। আহতদের সঙ্গে কথা হয়েছে।” এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসাধীন। তবে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের উদ্ধারের কাজ এখনও চলছে।
উল্লেখ্য, ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। সেই দলে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের এসিপি জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়। গোয়েন্দা দপ্তরের হোমিসাইড বিভাগের অফিসার ইনচার্জ দেবাশিস দত্ত। গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর হিরক দলপতি, গুণ্ডাদমন শাখার ইন্সপেক্টর সরফরাজ আহমেদ। তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মানস ভট্টাচার্য, ও তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর কুশল মণ্ডল। তারাতলা কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম গুলজার হোসেন (সুপার ভাইজার অয়ন ট্রেডার্স), কমল সামন্ত (লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক), শম্ভুনাথ শম্ভুনাথ বেহেরা (যিনি জমি লিজ নিয়েছিলেন), দিবারক ভাণ্ডারি (শ্রমিক সরবরাহকারী ও ট্রাইমেক্স ঠিকাদার), আবদুল হামিদ (কেএমসি-তে নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য মধ্যস্থতাকারী)। ঘটনায় আরও কারও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীদল। প্রয়োজনে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।