• কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন তার কোনও রেজিস্টার নেই, তারাতলার তদন্তে সিটের হাতে বিস্ফোরক তথ্য
    প্রতিদিন | ২৫ জুন ২০২৬
  • তারাতলা বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে চব্বিশ ঘণ্টা। এখনও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর চাপা রয়েছেন কতজন, সে তথ্য জানা নাকি সম্ভব হচ্ছে না কিছুতেই। কারণ, এত বড় গুদাম এবং কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণের কাজ চললেও সেখানে ছিল না কোনও রেজিস্টার। তার ফলে শ্রমিকদের তথ্যের খোঁজে হয়রান সিটের তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেকথাই জানালেন অ্যাডিশনাল সিপি ক্রাইম কুণাল আগরওয়াল।

    অ্যাডিশনাল সিপি জানান, বন্দরের থেকে এই জায়গাটি লিজ নিয়েছিল শম্ভুনাথ বহেরা। আগে তিন ভাইয়ের সংস্থা ছিল ‘বহেরা ব্রাদার্স’। পরে যদিও একক মালিক হয়ে যান শম্ভুনাথ। তিনিই ওই জায়গাটি গুদাম এবং কোল্ডস্টোরেজ তৈরি করছিলেন। ঠিকাদারি সংস্থা অয়ন ট্রেডার্স সেখানে কাজ করছিল। ওই কাজই করাচ্ছিলেন আসগার হোসেন। পুলিশের দাবি, এই বিপর্যয়ে প্রাণ গিয়েছে আসগরের। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন, খুনের চেষ্টা, অপরাধ ষড়যন্ত্রের চেষ্টায় মামলা রুজু হয়েছে।

    ধৃতদের মধ্যে মৃত আজগার হোসেনের বিরুদ্ধে ইকবালপুর এবং দক্ষিণ বন্দর থানায় পুরনো দু’টি মামলা রয়েছে। সৈয়দ মহম্মদ গুলজারের বিরুদ্ধেও পুরনো মামলা রয়েছে। বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই গুদামটির অনুমোদন দেয় কলকাতা পুরসভা। সেই অনুযায়ী কাজ শুরু হয়। সে কারণেই ভেঙে পড়া ওই গুদাম সংক্রান্ত আরও তথ্য জানতে কলকাতা পুরসভার থেকে তথ্য চেয়েছে লালবাজার। প্রয়োজনে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    এদিকে, এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১১ জন। নিহতেরা হলেন কৃষ্ণ চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, পাপ্পুকুমার রজক, ঘি কুমার, আসগার হোসেন, সাহিল সর্দার, হাসান ইমাম, গণেশ কালান্দি, নবীন সিং। জখম অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ১৯ জন। তাঁরা হলেন দুর্বাশা মাল্লাহ, মণিচাঁদ কুমার, শহিদ কুমার, বিশ্ব প্রকাশ, রাজেশ রুইদাস, বোদন মুণ্ডা, রাজেন্দ্র রাও, রামপ্রসাদ চৌধুরী, মহম্মদ আবিদ খান, সূরজ চৌধুরী, জওহর আলি গায়েন, দেবাশিস দাস, আরমান খান ওরফে মহম্মদ সোনু, সন্দীপ পাণ্ডে, মুস্তাকিন গায়েন, রাজকুমার রজক, কার্তিক পাত্র, খালেক সর্দার, মান্নু কুমার। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)