• হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও জোটে যৎসামান্য পারিশ্রমিক, পথে নেমে বিক্ষোভ কয়েকশো কর্মীর
    News18 বাংলা | ২৫ জুন ২০২৬
  • রাজ্যের সদ্য ঘোষিত বাজেটে বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন ঘোষণা থাকলেও, সম্পূর্ণ উপেক্ষিতই থেকে গেলেন ‘ন্যাশনাল হেলথ মিশন’ (এনএইচএম)-এর অধীনে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক স্বাস্থ্যকর্মীরা। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, বেতন বৃদ্ধি এবং ‘সমকাজে সমবেতন’-এর দাবিতে বারবার সরব হয়েও মেলেনি সুরাহা। ফলে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আছড়ে পড়ল রাজপথে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের (সিএমওএইচ) দফতরের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে সামিল হলেন চিকিৎসক, স্টাফ নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ফার্মাসিস্টসহ বিভিন্ন বিভাগের কয়েকশো চুক্তিভিত্তিক কর্মী।

    পরে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি বা ডেপুটেশনও জমা দেন তাঁরা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল তমলুক থানার পুলিশ বাহিনী। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, টিকাকরণ, পরিবার কল্যাণ এবং রোগ প্রতিরোধের মত সরকারের সমস্ত জনমুখী ও বুনিয়াদি স্বাস্থ্য প্রকল্পের মূল মেরুদণ্ড আসলে তাঁরাই। হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চার দেওয়ালের বাইরে বেরিয়ে বিভিন্ন মেলা, ক্রীড়া অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্য শিবির, এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিষেবা দেওয়ার গুরুদায়িত্বও পালন করতে হয় তাঁদের। রবিবারের মত ছুটির দিনেও অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়, অথচ তার জন্য মেলে না কোনও অতিরিক্ত ভাতা বা ছুটি।

    এ বিষয়ে বিক্ষোভকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, বাজেটে সমস্ত ধরনের সরকারি কর্মীদের জন্য বেতন পরিকাঠামোসহ সমস্ত কিছু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বারবার আবেদন জানান সত্ত্বেও গত ২২ তারিখের রাজ্য বাজেটে আমাদের জন্য কোনও ইতিবাচক ঘোষণা করা হয়নি। এই যৎসামান্য বেতনে বর্তমান বাজারে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের কী আমাদের প্রতি কোনও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে না!” পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ বিভাস রায় জানিয়েছেন, ” আমার কাছে এ ধরনের অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে,  যা কী নিয়ে অভিযোগ দেখতে হবে।”

    তমলুক, হলদিয়া, এগরা ও পাঁশকুড়া, এই চার পৌরসভার প্রায় আড়াইশো কর্মী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে খবর। জরুরি বিভাগ সচল রেখেই অন্যান্য ওপিডি ও প্রশাসনিক কাজে আংশিক কর্মবিরতি পালন করেন কর্মীরা। তাঁদের কথায়, তমলুকের এই বিক্ষোভ কেবল শুরু। নিজেদের দাবি আদায়ে রাজ্যের সমস্ত জেলার এনএইচএম কর্মীরা কলকাতার ‘স্বাস্থ্য ভবন’ অভিযানের ডাক দিয়েছেন। সেখানে একযোগে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রথম সারির এই যোদ্ধাদের আশা, এবার অন্তত দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা ও কান্নার আওয়াজ পৌঁছাবে প্রশাসনের শীর্ষ মহলে। সরকার মানবিক হয়ে পুনর্বিবেচনা করবে তাঁদের বেতন কাঠামো।
  • Link to this news (News18 বাংলা)