মরশুমের প্রথম ভারী বৃষ্টি। জল থইথই কলকাতার বিভিন্ন এলাকা, সংলগ্ন এলাকা। একই সঙ্গে বজ্রপাতেও রেকর্ড! আবহবিদদের লাইটনিং ডিটেক্টরে যে তথ্য ধরা পড়েছে, শহর ও শহরতলি মিলিয়ে দুপুর ১২টা ৫৫ থেকে দুপুর ৩টে ১০-এর মধ্যে ৩৭৭টির বেশি বাজ পড়েছে। এরই মধ্যে বিকেলের পরে আবার নতুন করে কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে কলকাতা, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনায়।
দু’দিন আগেই, মঙ্গলবার দুপুরে আচমকা কালো মেঘে ঢেকে যায় কলকাতার আকাশ। সে দিন এক ঘণ্টায় শুধু মধ্য কলকাতায় ২০০–র বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। সঙ্গে তেমনই ভারী বৃষ্টি। বৃহস্পতিবারও সেই ছবি কলকাতায়। তবে এ দিন বৃষ্টির দাপট অনেকটাই বেশি ছিল। সঙ্গে গুরুম গুরুম বাজ পড়ার আওয়াজ আর চারদিকে আলোর ঝলকানি।
এখন ভরা বর্ষাকাল। কিন্তু আবহবিদদের একাংশ বলছেন, ঘন ঘন বাজ, দমকা হাওয়া, মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষার চেনা চরিত্র নয়। এর অর্থ একটাই, দক্ষিণবঙ্গে মৌসুমি বায়ু দুর্বল। বজ্রগর্ভ মেঘ এই বৃষ্টি নামাচ্ছে। সঙ্গে বাজের শব্দে পিলে চমকে যাচ্ছে। হাওয়া অফিস বার বার বলছে, ঘন ঘন বাজ পড়লে কংক্রিটের নীচে থাকুন। মঙ্গলবারের মতোই এ দিনের দুর্যোগের নেপথ্যেও কিউমুলোনিম্বাস মেঘ।
মঙ্গলবার হাওড়ার ধূলাগড় থেকে কলকাতায় খিদিরপুরের মধ্যে অতি দ্রুত জমে উঠেছিল কিউমুলোনিম্বাস মেঘের স্তম্ভ। এ দিনও কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা মিলিয়ে ২০-২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে মেঘ জমে। ২৪ ঘণ্টায় কোনও এলাকায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে আবহাওয়া বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ভারী বৃষ্টি’ বলা হয়। মঙ্গলবার দেড় ঘণ্টার মধ্যে শহরে বৃষ্টি হয়েছিল ৫৯.৩ মিলিমিটার। বৃহস্পতিবার বৃষ্টি হয়েছে ৮৪.৬ মিলিমিটার।