• ‘আমার মুখোশ পরে অন্য কেউ গিয়েছিল...’, ভাইরাল ভিডিয়ো বিতর্কে নয়া দাবি ভগবন্ত মানের
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২৬
  • এ যেন ছিল রুমাল, হয়ে গেল বিড়াল। ‘ডন ২’ সিনেমার এক দৃশ্যে দেখা গিয়েছিল মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী ডন (অভিনয়ে শাহরুখ খান) পরিচয় লুকোতে অন্য এক ব্যক্তির (ঋত্বিক রোশন) মাস্ক পরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কাজ হাসিল করেন। এমনকী তাঁকে খুঁজতে আসা পুলিশ অফিসার রোমার সঙ্গে ডান্স করলেও সে ধরতে পারে না সামনে থাকা ব্যক্তি ডন। সৌজন্যে সিলিকন মাস্ক। সেই দৃশ্যের শেষে দেখা যায় গাড়িতে বসে মাস্কটি খুলে ফেলে আবারও নিজ অবতারে ফিরে গিয়েছে ডন। অর্থাৎ চোখের পলকে ঋত্বিক হয়ে গেলেন শাহরুখ খান। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের নয়া দাবি ফিরিয়ে আনল সেই সিনেমার প্রসঙ্গ। মাস্ক পরে অন্যের রূপ ধারণ সিনেমা-সিরিয়ালে হামেশাই চলে। কিন্তু এ বার নকল মাস্ক পরে পাঞ্জাবের ভগবন্ত মান সেজে আপত্তিকর আচরণ করার অভিযোগ। সেই অভিযোগ তুলেছেন খোদ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী।

    ভগবন্ত মানকে কেন্দ্র করে চলা ভিডিয়ো বিতর্কে নতুন মোড়। একটি ভাইরাল ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে মানের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় বৃহস্পতিবার ফের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করলেন, ভিডিয়োতে যে ব্যক্তি দেখা যাচ্ছে, সেটি তিনি নন, বরং তাঁর মতো দেখতে মুখোশ পরে কেউ ওই কাজ করেছে। মানের অভিযোগ, অপরাধীর উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিকভাবে তাঁকে বদনাম করা।

    সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োকে ঘিরে তোলপাড় পাঞ্জাব। অভিযোগ, ওই ভিডিয়োতে শিখ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন আচরণ করতে দেখা গিয়েছে এক ব্যক্তিকে। ভিডিয়োর ওই ব্যক্তি আসলে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান বলে দাবি করা হয়। যদিও শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে শাসক দল আম আদমি পার্টি (AAP)।

    বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে ফের মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভিডিয়োটি তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ।’ তাঁর দাবি, আধুনিক প্রযুক্তি, সম্পাদনা এবং ছদ্মবেশ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। মানের কথায়, তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ধর্মকে ব্যবহার করে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে চাইছে।

    এই বিতর্ক আরও জটিল হয় ফরেনসিক রিপোর্ট ঘিরে। এর আগে আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, রাজ্যের বাইরে থাকা দু’টি স্বাধীন পরীক্ষাগার ভিডিয়ো বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে যে ভিডিয়োতে থাকা ব্যক্তি ভগবন্ত মান নন এবং সেখানে অন্য কাউকে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

    অন্যদিকে, তদন্তের নতুন পর্বে গুরুগ্রাম পুলিশ একটি FIR দায়ের করে এবং দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ, ভিডিয়ো সংক্রান্ত ফরেনসিক রিপোর্টকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল। তদন্তকারীরা আর্থিক লেনদেন, ডিজিটাল তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন।

    এর পরেই বিজেপি এবং বিরোধী দলগুলি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে এবং জবাবদিহির দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে শিখ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির পক্ষ থেকেও আপত্তি জানানো হয়েছে। কিছু ধর্মীয় মহল এই ঘটনাকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে।

    তবে আম আদমি পার্টির বক্তব্য, পুরো ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিডিয়োটির সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। দলটির দাবি, যদি সত্যিই নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন হয়, তবে সমস্ত ডিজিটাল ও ফরেন্সিক প্রমাণ আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করানো উচিত।

  • Link to this news (এই সময়)