তারাতলার দুর্ঘটনার মামলার তদন্তে আটক করা হলো কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর হাতে আটক হয়েছেন কালীচরণ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি ছিলেন তিনি। এ দিন দুপুরেই এই ব্যক্তির নাম করে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বিধানসভায় নথি ও তথ্য নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময়েই তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তাঁর অভিযোগ ছিল, ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই পুরসভার ওই দায়িত্বে আনা হয়েছিল কালীচরণকে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কলকাতা সব ভবনের অনুমোদন মিলত কালীচরণে কথাতেই। তিনি বলেছিলেন, ‘কালীকে ধরলেই সব সামনে চলে আসবে।’
দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে ভূমি রাজস্ব দপ্তর, তারপরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসে। পরে প্রশিক্ষণের সময়ে সেটা ছেড়ে ফের ফিরে যান ভূমি রাজস্ব দপ্তরে। ২০১০ সাল থেকে কলকাতা পুরসভায় কাজ শুরু করেন কালীচরণ। পরে ২০১৮ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পদে বসেন ফিরহাদ হাকিম। তার পরে ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি পদে আসেন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার অন্দরে বিশেষ ভাবে ক্ষমতাশালী ছিলেন তিনি। কলকাতা পুর এলাকায় কোনও বিল্ডিং প্ল্যান পাশের ক্ষেত্রে তাঁর অসীম প্রভাব ছিল।
তারাতলায় ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ গোডাউনটির নকশার যে নথিতে ফিরহাদের সই রয়েছে, বিধানসভায় সেটি তুলে ধরে দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে যাঁরা জড়িত, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তার পাল্টা ফিরহাদের দাবি, ‘আমার জানা নেই। প্ল্যান অনুমোদন হয় বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট থেকে। কমিশনার হয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আমার কাছে আসত।’