আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে রাজ্যের উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রস্তাব এই বছর রেখেছেন অর্থমন্ত্রী ডঃ স্বপন দাশগুপ্ত। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজে সুবিধার জন্য বাজেটে তিনি পাঁচটি নতুন জেলা তৈরির কথাও ঘোষণা করেছেন। রাজ্য সরকারের ঘোষণা মতো প্রস্তাবিত নতুন জেলাগুলির মধ্যে অন্যতম হল জঙ্গিপুর জেলা। মুর্শিদাবাদ জেলাকে দু’ভাগে ভেঙে নতুন এই জেলা তৈরির করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে রাজ্য বাজেটে।
তবে ইতিমধ্যেই জঙ্গিপুর মহকুমার বিভিন্ন জায়গা থেকে দাবি উঠেছে প্রস্তাবিত নতুন জেলার নাম পরিবর্তনের জন্য। প্রস্তাবিত নতুন জেলাটির নাম ‘উত্তর মুর্শিদাবাদ’ রাখার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আবেদন করাও শুরু হয়েছে। রাজ্য বাজেটে প্রস্তাবিত জঙ্গিপুর জেলার নাম ‘উত্তর মুর্শিদাবাদ’ রাখার আবেদন জানিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিলেন জঙ্গিপুরের ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান। তিনি ইতিমধ্যে তৃণমূল ত্যাগ করে এনসিপিআই নামক একটি নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ‘দাদা’ সম্বোধন করে লেখা চিঠিতে খলিলুর লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশনে আপনার ঘোষণার মাধ্যমে মুর্শিদাবাদ জেলার প্রশাসনিক সুবিধার্থে নতুন জেলা গঠনের সিদ্ধান্তকে আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।” চিঠিতে খলিলুর মুখ্যমন্ত্রীকে লিখেছেন, “আপনি অবগত আছেন মুর্শিদাবাদ নামটি শুধু এই জেলার নাম নয়; এটি বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। তাই নবগঠিত দুই জেলার নামকরণের ক্ষেত্রে ‘মুর্শিদাবাদ’ নামটি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” চিঠিতে খলিলুর রহমান মুখ্যমন্ত্রী উদ্দেশ্য আবেদন করেছেন, “প্রস্তাবিত নতুন জেলার নাম ‘উত্তর মুর্শিদাবাদ’ রাখা হোক। এর ফলে জেলার ঐতিহাসিক পরিচয় অক্ষুন্ন থাকবে এবং মুর্শিদাবাদবাসীর দীর্ঘদিনের আবেগ ও ঐতিহ্যের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা পাবে।” প্রসঙ্গত, তৃণমূল সরকারের আমলেও মুর্শিদাবাদ জেলাকে ভেঙে জঙ্গিপুরকে পৃথক একটি জেলা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদে ‘জঙ্গিপুর’ নামে একটি পৃথক পুলিশ জেলাও তৈরি হয়েছে। তবে জঙ্গিপুর, পৃথক একটি জেলা হিসেবে তৃণমূল সরকারের আমলে ঘোষণা হয়নি। এর ফলে যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে এখনও সামশেরগঞ্জ, ফরাক্কার মতো মুর্শিদাবাদের উত্তর দিকের প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আজও বহু মানুষকে বহরমপুরে আসতে হয়। বিজেপি সরকার জঙ্গিপুরকে পৃথক একটি জেলা হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক কাজের জন্য আর বহরমপুরে ছুটে আসতে হবে না। তাঁরা সমস্ত কাজ জঙ্গিপুর থেকেই করে নিতে পারবেন।
রাজ্য বাজেটে জঙ্গিপুরকে পৃথক জেলা হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও মুর্শিদাবাদ জেলার কোন কোন ব্লক বা থানাকে নিয়ে প্রস্তাবিত নতুন জেলা তৈরি হবে সেই বিষয়ে এখনও কোনও ‘নোটিফিকেশন’ সরকারের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। অনেকেই মনে করছেন বর্তমানে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলাটি যে সমস্ত ব্লক বা থানা নিয়ে তৈরি হয়েছে তাকেই পূর্ণাঙ্গ জেলার রূপ দেওয়া হবে।
জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানের প্রতিনিধি বিকাশ নন্দ বলেন, “ঐতিহাসিক দিক থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার গুরুত্ব অপরিসীম। রাজ্য সরকার একসময় মেদিনীপুর জেলাকে ভাগ করে পূর্ব এবং পশ্চিম দুই মেদিনীপুর হিসেবে ঘোষণা করেছিল। আমারও চাই মুর্শিদাবাদ জেলাকে ভাগ করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাতে ‘মুর্শিদাবাদ’ নাম যেন দু’টি জেলাতেই থাকে। সেক্ষেত্রে ‘জঙ্গিপুর’ জেলার নাম পরিবর্তন করে ‘উত্তর মুর্শিদাবাদ’ রাখা হোক। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যদি জঙ্গিপুরবাসীর এই দাবি মেনে নেন তাহলে সকলেই তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন।”