এ যে 'নিশির ডাক', 'ডিপি' দেখে প্রেমে পড়ে সর্বনাশ!
আজকাল | ২৬ জুন ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: সমাজমাধ্যমে অচেনা মহিলার সঙ্গে আলাপের পর দেখা করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন যুবকেরা। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ক্যামেরাবন্দি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লক্ষাধিক টাকা ও সোনার গয়না। এমনই এক অভিনব ব্ল্যাকমেলিং চক্রের পর্দাফাঁস করল ঘাটাল মহকুমার দাসপুর থানার পুলিশ। ঘটনায় দুই মহিলা-সহ চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক টাকা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে ফেসবুকে সুন্দর ছবি দেওয়া প্রোফাইল থেকে মেসেজ আসত যুবকদের কাছে। কিছুদিন কথাবার্তা চলার পর সম্পর্ক একটু গাঢ় হলে, মহিলাদের তরফে যুবকদের দেখা করার প্রস্তাব দেওয়া হত।
সেই ফাঁদে পা দিয়ে যুবকেরা নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছলেই শুরু হত আসল প্রতারণা। বাড়িতে ডেকে যুবকদের সোজা শোওয়ার ঘরে নিয়ে যাওয়া হত। এর কিছুক্ষণ পরেই সেখানে আচমকা হাজির হতেন এক ব্যক্তি। নিজেকে ওই মহিলার স্বামী পরিচয় দিয়ে, মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ড করতে শুরু করতেন তিনি। সঙ্গে যোগ দিতেন চক্রের আরও এক মহিলা সদস্য।
এরপরই শুরু হত ব্ল্যাকমেল। ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার এবং পুলিশের কাছে যাওয়ার হুমকি দিয়ে চার-পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করা হত। সম্মানহানির ভয়ে যুবকেরা কান্নাকাটি করলেও রেহাই মিলত না।
উলটে পকেটে থাকা নগদ টাকা কেড়ে নেওয়া হত এবং ফোন থেকে ইউপিআই-এর মাধ্যমে জোর করে টাকা ট্রান্সফার করানো হত। শুধু তাই নয়, গলা থেকে সোনার চেনও খুলে নিত অভিযুক্তেরা। এক যুবকের ক্ষেত্রে সেই সোনার চেন জোর করে দোকানে নিয়ে গিয়ে গলিয়ে বিক্রি করে টাকা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ।
সম্প্রতি এক যুবক সর্বস্বান্ত হওয়ার পর দাসপুর থানার দ্বারস্থ হন। তিনি পুলিশের কাছে গোটা বিষয়টি বিস্তারিত জানান। অভিযোগ পেয়েই তৎপর হয় দাসপুর থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে সুলতাননগরের কাছে একটি ভাড়াবাড়ির হদিস পান তদন্তকারীরা। ওই বাড়িতেই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া থাকতেন চক্রের দুই সদস্য। অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেই দুই মহিলা ও দুই পুরুষ-সহ মোট চার জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম ঝিলিক মাঝি ও কমল মহান্তি, তাঁদের বাড়ি ক্ষীরপাইয়ে। এছাড়া হাওড়া জেলার বাসিন্দা বিনয় দাস ও সুপ্রিয়া মান্নাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ধৃতদের কাছ থেকে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এর আগেও বহু মানুষকে এই চক্রের শিকার হতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের ঘাটাল মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
এই ঘটনার পর সাইবার বিশেষজ্ঞরা এবং পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে, সমাজমাধ্যমে অচেনা কারও মেসেজে সাড়া দেওয়ার আগে বা দেখা করতে যাওয়ার আগে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। সামান্য অসতর্কতায় বড় বিপদ ঘটতে পারে।