আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি, রাজ্যের একাধিক কলেজের ভিতরে বেডরুম, খাট থাকা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক অভিযোগ জারি হয়েছে ইউনিয়ন রুম নিয়েও।
শিয়ালদা সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ভিতরেও বেডরুম থাকা নিয়ে উত্তাল হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। এবার কলেজে নতুন ভর্তির মরশুমের আগে কড়া নির্দেশিকা জারি করল বিকাশ ভবন অর্থাৎ উচ্চশিক্ষা দপ্তর।
বিকাশ ভবনের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কলেজগুলিতে যে সমস্ত ঘর বা ইউনিয়ন রুম লক করা রয়েছে সেগুলি অধ্যক্ষ, উপাচার্য, অফিসার-ইন-চার্জ, টিচার-ইন-চার্জ এবং কলেজের ন্যূনতম পাঁচজন স্থায়ী কর্মী উপস্থিতিতে খুলতে হবে।
ঘর খোলার পুরো প্রক্রিয়াটি ছবি ও ভিডিও করতে হবে নির্দেশ দিয়েছে বিকাশ ভবন। মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। ঘরের ভিতরে যা যা পাওয়া যাবে তার একটা তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
সেখানে ঘর খোলার সময় উপস্থিত সকল কর্মীর স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। ঘরের ভিতরে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলে তা অবিলম্বে গভর্নিং বডি এবং পশ্চিমবঙ্গের ডিপিআই-কে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘কলেজে ভর্তির মরশুম চলছে। এই সময় নতুন ছাত্রছাত্রীরা কলেজ ক্যাম্পাসে আসছে, কলেজ পরিসরে আসছে। গত কয়েক বছর ধরে আমরা এই ভর্তির মরশুমে নানা ধরনের অভিযোগ পেয়েছি।’
উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রীর অভিযোগ, গত ১০ বছর ধরে প্রায় পশ্চিমবঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনই হয়নি। কিছু ছাত্র নেতার ভেগধারী তারা কলেজ ক্যাম্পাসগুলিতে দাদাগিরি, গুন্ডাগারি, এক্সটর্শনের কাজ করতে থাকে।
তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা দপ্তর জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। সমস্ত কলেজ প্রিন্সিপাল, টিআইসি, বাকি যারা আছেন প্রশাসকদের বলা হয়েছে যে ইউনিয়ন রুম স্যানিটাইজ করুন। দেখুন ওখানে কোনও অপকর্ম হচ্ছে কিনা। তালাচাবি মারুন, তা নিজের কাছে রাখুন।’
তিনি জানান, গোটা প্রক্রিয়ার একটা ডিক্লারেশন উচ্চ শিক্ষা দপ্তরে বিকাশ ভবনে পাঠাতে বলা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই কাজ করতে বলা হয়েছে।
জগন্নাথ বলেন, ‘আমরা কোনওভাবেই কলেজগুলিতে আসন বিক্রির চক্র, সিট বিক্রির যে চক্র, সেটা আমরা চলতে দেব না। সরকার এটা নিয়ে কঠোর হবে। হাইকোর্টের অর্ডার আছে ইউনিয়ন রুম বন্ধ রাখার। হাইকোর্টের ওই অর্ডারকেই কমপ্লাই করে এবং এখনকার যে পরিস্থিতি ছাত্র ভর্তির সময় এই দুটোকে মিলিয়ে আমরা উচ্চশিক্ষা দপ্তর নির্দেশিকা পাঠিয়েছি।’