• পুরপ্রধানদের কড়া বার্তা রাজ্যের এই মন্ত্রীর
    আজকাল | ২৬ জুন ২০২৬
  • মিল্টন সেন

    ‘মানুষকে পরিষেবা না দিতে পারলে পদত্যাগ করুন’, রাজ্যের মন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা। ইতিমধ্যেই চন্দননগর পুরনিগম সহ হুগলির একাধিক পুরসভায় পদত্যাগ করেছেন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। সেই জায়গায় প্রশাসক বসানো হয়েছে।

    এবার শ্রীরামপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্যের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা‌। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে মন্ত্রী ভাস্কর লেখেন, ‘মাননীয় পুর প্রধানদের বলছি, শ্রীরামপুর ও রিষড়া পুরসভার মানুষকে ঠিকমত পরিষেবা না দিতে পারলে আপনারা পদত্যাগ করুন। এলাকায় কোনও অনিয়ম, মানুষের অসুবিধা এই সরকার মেনে নেবে না। আমার ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। মানুষ যা চাইছে এবার তাই হবে।’ 

    এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলেছেন, জনগণের কোনও অসুবিধা হলে আমাদের দেখতে হবে। সৌজন্যমূলক ভাবে দুটি পুরসভাতে বসেছি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কোনও রাজনৈতিক বার্তা আমি তাদের দিইনি। কিন্তু তাদের বারবার বলেছি, যে আপনারা কাজ করুন। আমরা আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। আমার মনে হয়, এই ব্যাপারটাকে কেউ কেউ আমার দুর্বলতা ভেবে ফেলেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আমি অভিযোগ পাচ্ছি। রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যানকে বলায় তিনি দু’একটা জায়গায় রেড করেছেন। কিন্তু এখনও বহু জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন না। পরিষেবা যদি না দিতে পারে, তার দায়িত্ব পুরসভার চেয়ারম্যানের। তাই আমি বলেছি, যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তাহলে পদত্যাগ করুন। সরকার দেখে নেবে। কোথাও পরিষেবা নেই। কোনও অবস্থাতেই এভাবে চলতে পারে না। যদি আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয় তার দায়িত্ব কে নেবে। মানুষের কাজ করার জন্য আমরা এসেছি। মানুষের জন্যই সরকার। তাই কোনও ভাবেই কোথাও যেন পরিষেবা ব্যাহত না হয়। হয় তাদের পদত্যাগ করতে হবে। না হলে পরে আমাদের সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’ 

    এই প্রসঙ্গে শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা বলেন, ‘মন্ত্রী অফিসে এসে বিস্তারিত বলে গেছেন। আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করে যাচ্ছি। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। সেখানে গিয়ে আমি কথা দিয়ে এসেছিলাম। রাস্তার কাজ হবে। কিছু কাজ হয়েছে। কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আমরা মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য সবসময় চেষ্টা করছি। তিনি সহযোগিতা করবেন বলেছেন। আমরাও মানুষকে পরিষেবা দেব। পদত্যাগের বিষয়ে আমরা নিজেরাও আলোচনা করেছি। আবারও আলোচনা করব। যদি না পারি অবশ্যই মন্ত্রীকে সেটা বলব।’ 

    সম্প্রতি বাঁশবেড়িয়া পুরসভার বিরুদ্ধে একই অভিযোগে সরব হয়েছিলেন সপ্তগ্রামের বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ। তার পরেই পুরসভার চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। তার আগে মেয়র সহ ৩০ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় প্রশাসক বসানো হয়েছে চন্দননগর পুর নিগমে।

    এদিন মন্ত্রীর সমাজ মাধ্যমে পোস্ট প্রসঙ্গে সপ্তগ্রামের বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ বলেন, ‘সর্বত্র একই অভিযোগ। কোথাও পরিষেবা মিলছে না। ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। সেটাই হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনীতির রং দেখলে চলবে না। তাই মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্যের সমাজ মাধ্যমে পোস্টের পেছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। লক্ষ্য সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।’
  • Link to this news (আজকাল)