• আরজি কর কাণ্ডে ফের সিবিআই-এর দিকেই আঙুল!
    আজকাল | ২৬ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর জি কর হাসপাতালের ঘটনার তদন্তে সিবিআই-এর ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এবং আদালতের তরফে নতুন করে নির্দেশ দেওয়ার পরেও তদন্তের কোনও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই ঢিলেঢালা মনোভাব দেখে আদালত স্পষ্ট ভাষায় তাদের ভর্ৎসনা করেছে।

    শুনানি চলাকালীন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে মন্তব্য করেন, নির্দেশ দেওয়ার আগেও তদন্ত যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, এখনও ঠিক সেখানেই থমকে আছে। চার্জশিট পেশ করার পর এতগুলো মাস কেটে গেলেও তদন্ত একচুলও এগোয়নি। সিবিআই-এর এমন গা-ছাড়া ভাব দেখে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তদন্ত শেষ হতে আর কতদিন লাগবে? সিবিআই আধিকারিকরা কি নিজেদের আদালতের ঊর্ধ্বে মনে করছেন? যদি তারা উপযুক্ত তদন্ত করতে না পারে, তবে আদালত এই মামলা তাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে বাধ্য হবে।

    একই সুর শোনা যায় বিচারপতি শম্পা সরকারের গলাতেও। তিনি সরাসরি সিবিআই-এর কাজকে 'দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলে আখ্যা দেন। তাঁর স্পষ্ট প্রশ্ন, হাসপাতালের সেমিনার রুম সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেওয়া হল, অথচ সেই তথ্যপ্রমাণ লোপাটের নেপথ্যে কারা ছিল, তা নিয়ে সিবিআই-এর কোনও সদর্থক তদন্তই নেই। নতুন কোনও তথ্য সামনে আনার বদলে একই ব্যক্তিকে বারবার ডেকে পরীক্ষা করে সময় নষ্ট করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ সিবিআই ঠিকমতো বুঝতে পারছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

    আদালতের এই কড়া অবস্থানের মাঝে নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবীরাও সিবিআই-এর সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভয়ার মায়ের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, সিবিআই যদি কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হোক। পরিবারের দাবি, তারা ইতিমধ্যেই তিনজনের নাম কেন্দ্রীয় সংস্থাকে জানালেও আজ পর্যন্ত তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। মায়ের কাছে অডিও-ভিডিও ক্লিপের বয়ান রয়েছে যেখানে বলা হচ্ছে দেহ সিঁড়ি দিয়ে নামানো হচ্ছিল, অথচ সিবিআই কেবল স্থানীয় থানার ওসি কিংবা একজন ব্যাংক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই দায় সারছে। সিবিআই শুরু থেকেই একজনকে মূল অভিযুক্ত ধরে নিয়ে বসে আছে এবং 'বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের' কথা বললেও তার সপক্ষে নতুন কোনও প্রমাণ তুলে ধরতে পারছে না।

    উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআই-কে পুনরায় কড়া নির্দেশ দিয়েছে। পুরনো কোনও তদন্তকারী আধিকারিককে নতুন গঠিত সিট বা বিশেষ তদন্তকারী দলে রাখা যাবে না। আগামী ২১ মে-র নির্দেশ মেনে সিবিআই-কে নতুন করে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে হবে। সেই সঙ্গে এযাবৎকাল পর্যন্ত সিবিআই যা যা তথ্য ও নথি সংগ্রহ করেছে, তাও সশরীরে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৬ আগস্ট দুপুর দুটোয়।

     
  • Link to this news (আজকাল)