আজকাল ওয়েবডেস্ক: তারাতলার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারির পরেই কলকাতা কর্পোরেশনের ওএসডি অর্থাৎ অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি কালীচরণ ব্যানার্জিকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশ।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এদিন প্রথমে আটক করা হয় কালীচরণকে। তাঁকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে তারাতলা কাণ্ডে গঠিত সিট।
তার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কালীচরণকে। জানা গিয়েছে, এই কালীচরণ কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ডানহাত ছিলেন। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে শোনা গিয়েছিল কালীচরণের নাম।
তিনি বলেছিলেন, ‘কেএমসি-তে কী হয়েছে আমরা জানি না? কালীকে তুললে সব বেরিয়ে যাবে। কলকাতা কর্পোরেশনে কালী না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। আর কালী আপয়েন্টেড বাই ক্যামাক স্ট্রিট, সবাই জানে। আর এই কালী, বাইপাসের পাশে আপনাদের তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে। এখান থেকে টাকাটা তুলে, ওখানে পাঠায়। আমরা সব জানি।’
শুভেন্দু সরকারের দু’মাসের মাথায় তারাতলার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘটনার ঠিক পরের দিনেই, বিধানসভায় যেমন ঘটনার বিবরণ, ক্ষতিপূরণ, সকলের তৎপরতার খতিয়ান তুলে ধরলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তেমনই নিশানা করলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেও।
আর তার মাঝেই উঠে আসে আরও এক নাম, ‘কালী’। তাঁর নামের সঙ্গেই জুড়ে গেল অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের নাম। কে এই কালী? সূত্রের তথ্য, এই কালীর পুরো নাম কালীচরণ ব্যানার্জি।
প্রথমে ভূমি রাজস্ব দপ্তর, তারপর পুলিশ এবং আবার ফিরে ভূমি রাজস্ব দপ্তরে আসেন তিনই। ২০১০ সাল থেকে পুরসভায় কাজ শুরু করেন তিনই। এক সময়ে ফিরহাদ হাকিমের আপ্ত সহায়ক পদেও ছিলেন বলে জানা যায়।
তথ্য, ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পুরসভার মেয়র হওয়ার পর, কালী হন তাঁর ওএসডি। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও অভিষেক ব্যানার্জির নাম ভাঙিয়ে দাপট দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা যায়।
২০২৪ সালে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তৎকালীন ওএসডি (OSD)-র বিরুদ্ধে শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল শ্রী অভিষেক ব্যানার্জির অফিসই।
অভিযোগ ছিল, অভিষেকের নামের অপব্যবহার করা এবং সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করার। ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ এর ওই অভিযোগ দায়ের হয়। এবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল তাঁর নাম।
বিধানসভায় এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানালেন, অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। সঙ্গেই তিনই জানালেন, ‘অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না, এটা স্বীকার করেও দায়িত্বশীল সরকার তার দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ মৃতদের পরিবারকে দশ লক্ষ করে এবং আহতদের এক লক্ষ করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।