• সংসারের হাল ধরতে কলকাতায় গিয়েছিলেন,ফিরল নিথর দেহ,তারাতলার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বর্ধমানের যুবকের
    News18 বাংলা | ২৬ জুন ২০২৬
  • পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া মহকুমার অগ্রদ্বীপের গাজিপুর গ্রামের চৌধুরীপাড়ায় এখন শুধুই শোকের ছায়া। সংসারের হাল ধরতে কলকাতায় কাজ করতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হল না ১৯ বছরের রোহিত চৌধুরীর। তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি বহুতল ভবন ধসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন গ্রামেরই আর এক যুবক রামপ্রসাদ চৌধুরী, যিনি বর্তমানে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার খবর গ্রামে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। যে ছেলেটি পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিল, সেই ছেলেই আজ ফিরল নিথর দেহ হয়ে। রোহিতের মা নিলাম চৌধুরী বলেন, ‘‘বলেছিল পাঁচ তারিখ বাড়ি ফিরব। কাকার বিয়ের সময় যাব মা, বেশি কামাই করলে হবে না, টাকা পাব না। কিন্তু এখন তোর টাকা কে খাবে !’’

    আরও পড়ুন-প্রথমবার বাড়ি থেকে কাজে গিয়েছিলেন, তারতলায় ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু বাসন্তীর যুবকের

    চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেই বড় হয়ে উঠেছিল রোহিত। তাঁর বাবা মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় সংসারের সমস্ত দায়িত্ব প্রায় তাঁর কাঁধেই এসে পড়েছিল। মা স্থানীয় বাজারে শাকসবজি বিক্রি করে কোনওরকমে সংসার চালাতেন। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং অভাব দূর করার আশায় মাত্র এক মাস আগে কলকাতায় রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জীবিকার সন্ধানে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। বুধবারের সেই দুর্ঘটনা যেন মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে দিল একটি পরিবারের সব স্বপ্ন। রোহিতের দাদু বাবুলাল চৌধুরী বলেন, ‘‘পেটের দায়ে এই একমাস হল কাজে গিয়েছিল। কিন্তু এইরকম ঘটনা ঘটে যাবে আমরা কেউ ভাবতে পারিনি, খুব কষ্ট হচ্ছে। আমাদের গ্রামের আরও একজন আহত।’’

    আরও পড়ুন– লক্ষ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিল, ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে ভেসে আসত ‘হিস-হিস’ শব্দ! দরজা খুলতেই পুলিশের চোখ কপালে

    ময়নাতদন্তের পর রোহিতের দেহ গ্রামে পৌঁছাতেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। একদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানোর যন্ত্রণা, অন্যদিকে একই গ্রামের আর এক যুবক রামপ্রসাদের হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই! এই দুই ঘটনায় ভারাক্রান্ত অগ্রদ্বীপ। প্রতিবেশীদের চোখেও জল, কারণ রোহিত শুধু পরিবারের নয়, গ্রামেরও অত্যন্ত পরিচিত ও পরিশ্রমী এক যুবক ছিল। এখন শোকাহত পরিবার প্রশাসনের সহযোগিতা, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশায় দিন গুনছে, আর গ্রামবাসীরা প্রার্থনা করছেন আহত রামপ্রসাদের দ্রুত সুস্থতার জন্য।
  • Link to this news (News18 বাংলা)