বীরভূম জেলার মধ্যে মোট রয়েছে পাঁচটি সতীপীঠ তেমনি রয়েছে সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ মা তারার মন্দির। মা তারার মন্দির হওয়ার কারণে প্রত্যেকদিন এখানে প্রায় হাজার হাজার পর্যটকদের সমাগম ঘটে। আর এই তারাপীঠ এবং রামপুরহাট এলাকার পরিকাঠামো ও সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ (TRDA)-এর সূচনা করা হয়। সময়টা ছিল তখন ২৫ মার্চ, ২০১৫ সাল। এরপরে কেটেছে বহু বছর। আর এই তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ ছিল পর্যটক থেকে শুরু করে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
প্রসঙ্গত, গত মাসের ৪ তারিখ বিপুল সংখ্যক সিট পেয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্যে হয়েছে পালাবদল। এরপরই তারাপীঠ মন্দির এবং তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পরিষদের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অনিয়মের তদন্ত শুরু করেছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসক তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পরিষদের অফিসে এসে আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন।
বিগত পাঁচ বছরে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ কোন খাতে কত সরকারি অনুদান পেয়েছে তার মধ্যে কত টাকা খরচ হয়েছে সমস্ত তথ্য দিতে হবে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদকে। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পরিষদের সামগ্রিক বিষয়টি এবং বিশেষ করে তারাপীঠ মন্দির নিয়ে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বহুদিন থেকে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের কথা জানিয়ে আসছেন তারাপীঠের স্থানীয় বিজেপি নেতা নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়।
এর পাশাপাশি তারাপীঠ মহাশ্মশানে সাধু সন্ন্যাসীদের জন্য নির্মিত ঘর টাকার বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে এমনটাও অভিযোগ ওঠে। মহাশ্মশানে হোম যজ্ঞ করার জন্য পর্যটকদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার ও অভিযোগ রয়েছে। এইসব অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের পালাবদলের পরের দিনে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ অফিসের তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয় বিজেপি নেতা কর্মীরা। কয়েকদিন আগেই রামপুরহাট বিধানসভার বিধায়ক ধ্রুব সাহা জেলা প্রশাসনের কাছে এই ব্যাপারে অভিযোগ জানান। তদন্তের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন রামপুরহাট বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক তথা তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের বিদায়ী চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।