বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজের রেকর্ড বিভাগে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৬ জুন ২০২৬
বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের লোকপুর ক্যাম্পাসে সাপের উপদ্রব কোনও নতুন ঘটনা নয়। ঝোপঝাড়ে ঘেরা এই ক্যাম্পাসে বছরের বিভিন্ন সময়েই বিষধর সাপের দেখা মেলে। তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। সম্প্রতি হাসপাতালের রেকর্ড বিভাগের দরজায় ‘সাপ হইতে সাবধান’ লেখা সতর্কবার্তা টাঙিয়ে দেওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে বহু বছরের জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ফাইল। বিভাগের কর্মীদের দাবি, ঘরের বাইরে থাকা ঘন ঝোপঝাড় থেকে চন্দ্রবোড়া, কালাচ-সহ বিভিন্ন বিষধর সাপ মাঝেমধ্যেই নথিপত্রের ফাঁকে ঢুকে থাকে। সাপের উপদ্রব ঠেকাতে ঘরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত কার্বলিক অ্যাসিড ছড়ানো হলেও বিশেষ ফল মিলছে না। কর্মীদের কথায়, মাঝে মধ্যেই রেকর্ড রুমে সাপের দেখা মেলে। ফলে কার্যত আতঙ্কের পরিবেশ তাঁদের কাজ করতে হয়।
প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র সংগ্রহের জন্য এই বিভাগে আসেন। তাই তাঁদের আগাম সতর্ক করতেই দরজায় সাবধানবার্তা লাগানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শুধুমাত্র সতর্কবার্তা সংক্রান্ত পোস্টার দিয়েই কি দায়িত্ব এড়ানো যায়?
রেকর্ড বিভাগে আসা অশোক কর্মকার নামে সিমলিপালের এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত মানুষ এই বিভাগে আসেন। স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা না করে শুধু সতর্কবার্তা দিয়ে কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারেন না।’ তাঁর প্রশ্ন, যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, তবে তার দায় কে নেবে?
বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের সুপার অর্পণকুমার গোস্বামী জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগের কথা শুনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনও পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর সামনে আসেনি। ফলে তা অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে আমজনতাকে।