ব্যাঙ্কে এআই ব্যবহার নিয়ে সতর্ক আরবিআই, কড়া পদক্ষেপের পথে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক
প্রতিদিন | ২৬ জুন ২০২৬
এআই এখন সর্বত্র। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আজ চেনা ছবি। ব্যাঙ্ক পরিষেবা ক্ষেত্রও ব্যতিক্রম নয়। আর সেই বিষয়ে সতর্ক হয়েই পা ফেলতে চাইছে আরবিআই। এআই নির্ভর প্রযুক্তের ক্ষেত্রে ‘কিল সুইচ’-এর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কেবলই সিস্টেমের উপরে নির্ভরশীলতা নয়, মানুষের উপরে ভরসা রাখতে চাইছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
আরবিআই খসড়া নির্দেশিকায় জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এআই মডেলগুলির ওপর ব্যাঙ্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তদারকি বা নজরদারি ব্যবস্থা চালু রাখা উচিত। গ্রাহক বা বাইরের ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে এমন জেনারেটিভ এআই মডেলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা প্রয়োজন। এবং প্রয়োজন একটি ‘কিল সুইচ’-এর। অর্থাৎ এআই মডেল কোনও ভুল ফলাফল দিতে শুরু করলে সঙ্গে তাকে নিষ্ক্রিয় করা যাবে যার সাহায্যে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এমন কোনও এআই নির্ভর ব্যবস্থা রাখাই যাবে না, যেটাকে অবিলম্বে বন্ধ করার উপায় থাকবে না।
উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক বছর আগেও ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শব্দটা ছিল কল্পবিজ্ঞানেরই অংশ। এখন তা ঘোর বাস্তব। ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটির আত্মপ্রকাশের পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ বলতে থাকে, অচিরেই এআই চাকরি কাড়বে বহু মানুষের। নতুন যে ছবিটা ফুটে উঠছে তা আরও ভয়ংকর! বলা হচ্ছে, ২০৩২ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ চাকরিই গ্রাস করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা!
এই আশঙ্কার পাশাপাশি এআই বহু উপকারেও আসছে। যেমন আগুন লাগার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন ও রোবট বিশ্বজুড়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাকে বদলে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিই অগ্নি-নিরাপত্তার লড়াইয়ে হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় সহায়ক। কিন্তু যতই উপকারে আসুক, সতর্কতা যে প্রয়োজন তা বহু বিশেষজ্ঞই বলেছেন। আরবিআই জানিয়ে দিল, যতই কাজের হোক প্রযুক্তি, নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতেই রাখতে হবে।