• লক্ষ্মী ও অন্নপূর্ণার ফারাক কোথায়? বোঝালেন স্বপন, দুর্নীতিতে শ্বেতপত্র প্রকাশ
    প্রতিদিন | ২৬ জুন ২০২৬
  • রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে শাসক-বিরোধী সবপক্ষকেই একজোট হয়ে কাজ করার বার্তা দেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বিধানসভায় বাজেট ঘোষণার অতিরিক্ত জবাবি ভাষণে বিগত জমানার আর্থিক বেনিয়মকে আক্রমণ শানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “খুব শীঘ্রই রাজ্যের প্রতিটা দপ্তরে অর্থনৈতিক দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। প্রতিটা দপ্তর ধরে ধরে আর্থিক দুর্নীতি খতিয়ে দেখে সব রিপোর্ট সামনে আনবে ক্যাগ।”

    নতুন সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ও তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ফারাকও এদিন বিধানসভায় বুঝিয়ে দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছিল ইউনিভার্সাল। ধনী-দরিদ্র সবাই টাকা পেতেন, হয়তো দেখা গেল আমার স্ত্রী চলে গেলেন একটু পকেট মানি দরকার বলে। কিন্তু আমাদের অন্নপূর্ণা যোজনা যাঁর সত্যিই দরকার, তাঁরাই পাবেন।”

    রাজ্যে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ প্রসঙ্গে তৃণমূল সরকারকে বিঁধে তিনি বলেন, আগের জমানায় ডিএ দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৪ শতাংশ। রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করেছি। আগামী মার্চ মাসে যখন পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা হবে, তখন কর্মচারীদের বেতন কাঠামো বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। স্বপনের অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে কীভাবে কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পের টাকা এ রাজ্যে আসতে দেওয়া হত না, তা এঁরাই তাঁকে দেখিয়েছেন। এর পাশাপাশি, কিছু সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক সংস্কার করা গেলে কেন্দ্র থেকে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে বলেও বিধানসভাকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

    বাজেটে বিরোধীদের তোলা প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বিপুল আর্থিক সংকট মাথায় নিয়েই নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। তাঁর মন্তব্য, “কেন্দ্রের টাকা মানে তা তো বিদেশ থেকে আসছে না, ওটা ভারতেরই টাকা। মনে রাখতে হবে, পশ্চিমবঙ্গও দেশেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)