পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের মেঘ কিছুটা কাটতেই দেশের বাণিজ্যিক খাতে বড় স্বস্তি দিল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন, ২০২৬), এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে মন্ত্রক। তাতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য LPG সরবরাহে যে সমস্ত বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল, তা তুলে নেওয়া হলো। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে রান্নার গ্যাসের জোগান এখন প্রাক-ইরান যুদ্ধের সময়ের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরল।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, সঙ্কটের সময় যে C3 ও C4 গ্যাস পেট্রোকেমিক্যাল থেকে সরিয়ে LPG উৎপাদনে কাজে লাগানো হচ্ছিল, তার হার কমানো হচ্ছে। ফলে এ বার পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পেও কাঁচামালের সরবরাহ বাড়বে। তবে মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, দেশের অভ্যন্তরীণ এলপিজি উৎপাদন দিনে ৪০,০০০ টনের নীচে নামবে না।
এ ছাড়া, বন্ধ হয়ে যাওয়া বাল্ক LPG সরবরাহের ক্ষেত্রেও উন্নতি হয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, এই ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধের আগে সরবরাহ যে জায়গায় ছিল, বর্তমানে তার ৫০ শতাংশে পৌঁছনো গিয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, বাণিজ্যিক LPG ব্যবহারকারীদের ধীরে ধীরে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা PNG-র দিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম সচিব সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিবদের চিঠি দিয়ে এই নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা সুষ্ঠু ভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সরকারের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট, সঙ্কটের দিনে গৃহস্থের রান্নাঘর সুরক্ষিত রাখতে সরকার যে সকল কঠোর পদক্ষেপ করেছিল, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে তা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।