বুধবারই বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, ভারতীয় পাসপোর্ট শুধুমাত্র ভ্রমণের একটি নথি। এটি নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণপত্র নয়। এই নিয়ে জোর চর্চার মধ্যেই পাসপোর্ট তৈরির খরচ ব্যাপক হারে বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার (২৪ জুন) ‘পাসপোর্ট (সংশোধনী) বিধি, ২০২৬’ জারি করেছে বিদেশ মন্ত্রক। তাতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জুলাই তারিখ থেকে পাসপোর্টের আবেদন ও পাসপোর্টের পুনর্নবীকরণের আবেদনের জন্য বর্ধিত এই মূল্য কার্যকর হবে।
৩৬ পাতার সাধারণ পাসপোর্টের জন্য বর্তমানে মূল্য বা ফি দিতে হয় ১৫০০ টাকা। বিদেশ মন্ত্রকের জারি করা নয়া বিধি অনুযায়ী, তা বেড়ে হচ্ছে ২৫০০ টাকা।
একই ভাবে ৩৬ পাতার ‘তৎকাল’ (Tatkal) পাসপোর্টের খরচ ৩৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ৫০০০ টাকা।
এ ছাড়া ৬০ পাতার পাসপোর্টের ফি ২০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩,৫০০ টাকা এবং তৎকালের ক্ষেত্রে ৪০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬,০০০ টাকা হয়েছে।
তবে এই বর্ধিত ফি-র মাঝেও কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে মন্ত্রক। নয়া পাসপোর্ট বিধি অনুযায়ী, ৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সি প্রবীণ নাগরিকরা নতুন পাসপোর্টের আবেদন করলে, ফি-এর ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন।
তবে মনে রাখতে হবে, এই ছাড় শুধুমাত্র নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এই বয়স-গোষ্ঠীর কেউ তাঁর পাসপোর্ট Re-issue বা পুনর্নবীকরণ করতে চাইলে কোনও ছাড় পাবেন না।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের পকেটের চাপ যে আরও বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য। ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রামাণ্য না হোক, বিদেশ ভ্রমণের সুবিধা ও বিদেশের মাটিতে পরিচয়পত্র হিসেবেই এর গুরুত্ব অপরিসীম। পাসপোর্ট ছাড়া ভারতীয় নাগরিকরা তো যেতে পারেন মাত্র দু’টি দেশে— নেপাল আর ভুটান। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মরিশাসের মতো কয়েকটি দেশে ভারতীয়দের জন্য ভিসা-ফ্রি বা ভিসা অন অ্যারাইভালের সুবিধা আছে, কিন্তু পাসপোর্ট তো লাগবেই।