• নিজের মেয়ের খোঁজ মেলেনি, অচেনা তরুণীর জন্য কী করলেন অমৃতার বৃদ্ধ বাবা?
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২৬
  • তিনি বাবা। নিজের মেয়েকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেরাচ্ছেন। কয়েকদিন আগে কলকাতায় তাঁর মেয়ের মতো দেখতে একজনের খোঁজ মিলেছে শুনে বীরভূম থেকে ছুটে গিয়েছিলেন কলকাতার বিধাননগরে। কিন্তু পরে দেখেন, ওই ভবঘুরে তরুণী তাঁর মেয়ে নয়। কিন্তু সেই তরুণীকে দেখে তাঁর চোখের কোণ ভিজেছিল অর্ধেন্দু সিংহের। বাড়ি ফিরেও ভুলতে পারেননি। তাই জামা ও খাবার কিনে বৃহস্পতিবার ফের ছুটে গিয়েছিলেন কলকাতায়। কিন্তু আবার ধাক্কা লাগল বাবার মনে। কলকাতায় গিয়ে শুনতে পেলেন সেই তরুণীও পালিয়ে গিয়েছেন হাসপাতাল থেকে। শেষ পর্যন্ত চোখে জল নিয়ে তাঁকে ফিরে আসতে হলো বীরভূমে।

    চোখে জল নিয়ে অর্ধেন্দু সিংহ বলেন, ‘ওই ভবঘুরে তরুণীও তো কারও মেয়ে। তার জন্যও তো কেউ অপেক্ষায় রয়েছে। ভেবেছিলাম ওর জন্য একটু ভালো খাবার-জামাকাপড় নিয়ে যাব। হাসপাতালে টাকা দিয়ে একটা লোক ঠিক করে, ওর চুল কেটে স্নান করিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাবো। হয়তো আমার মেয়েও কোথাও ওই তরুণীর মতই ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

    তিনি জানিয়েছেন, অন্য অভিভাবকরা চাঁদা তুলে প্রায় সাত হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর খরচ হয়েছে ৩৭০০ টাকা। বাকি টাকা তিনি ফেরত দিয়ে জানিয়েছেন অন্য কোনও অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে। তাঁর খেদ, ‘অসহায়তা যে কী, তা এই কয়েকদিনে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি । তাই ঈশ্বরের কাছে চাই, আমার মতো আর কাওকে যেন এই দিন দেখতে না হয়।’

    কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ অর্ধেন্দু সিনহার মেয়ের অমৃতা। মেয়েকে খুঁজে পেতে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে চষে বেরিয়েছেন জেলা। সিউড়ি থেকে রামপুরহাটে খোঁজ করেছেন, কিন্তু খোঁজ মেলেনি। সংবাদমাধ্যমে সেই খবর প্রকাশিত হওয়া মাত্র নানা জায়গায় আলোচনা শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে পুলিশ, স্পেশাল টিম তৈরি করেছে জেলা পুলিশ। এরই মধ্যে খোঁজ এসেছিল অমৃতার মতো লাল রঙের কুর্তি পরা এক ভবঘুরে তরুণীর খোঁজ মিলেছে বিধাননগরে। সেই তিনি রামপুরহাটে। সেখানেই নবীন ক্লাবের সদস্যরা ক্লাবের মধ্যে তাঁর থাকার জায়গা করেছিল। খাবারের ব্যবস্থাও করছিলেন ওই ক্লাব সদস্যরাই। সোমবার রাতে রামপুরহাট থেকে কলকাতা যান অর্ধেন্দুবাবু। মঙ্গলবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় গিয়ে তরুণীকে ভালো করে দেখেন অর্ধেন্দু সিংহ। কিন্তু সেই তরুণী অমৃতা ছিলেন না। সে কথা জানিয়ে একটি লিখিতপত্র জমা দেন বিধাননগর দক্ষিণ থানায়। এরপর থানার তরফে ওই তরুণীকে ভর্তি করা হয় কলকাতার একটি হাসপাতালে। বিষণ্ণ মনে সিউড়ির বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন অর্ধেন্দু বাবু। কিন্তু বারবার সেই তরুণীর কথা মনে পড়ছিল তাঁর। অমৃতার সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় ওই তরুণীকে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন অর্ধেন্দুবাবুর স্ত্রী সুপ্রিয়া সিংহ। তরুণীর জন্য জামা ও খাবার নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অর্ধেন্দুবাবুর। এই ইচ্ছার কথা জানতে পেরে অমৃতার স্কুলের পড়ুয়াদের অভিভাবকেরা নিজেরা চাঁদা তুলে একটি গাড়ি ভাড়া করে দেন অর্ধেন্দুবাবুকে। সেই গাড়িতে করে বৃহস্পতিবার বেশ কিছু খাবার , জামাকাপড় নিয়ে কলকাতার হাসপাতালে ভবঘুরে তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে যান সিংহ দম্পতি। কিন্তু সেখানে গিয়ে আশাহত হতে হয় তাঁদের। তাঁরা জানতে পারেন ওই ভবঘুরে তরুণী হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)