নিয়তির নিষ্ঠুর খেলা, বাঘের আক্রমণে স্ত্রীর মৃত্যর ১২ বছর পর এবার শিকার স্বামী
News18 বাংলা | ২৬ জুন ২০২৬
১২ বছরের ব্যবধানে স্ত্রীর পর স্বামীকেও জঙ্গলের একই জায়গা থেকে টেনে নিয়ে গেল বাঘ। এক যুগ আগে স্ত্রী রুমকি ভক্তাকে বাঘ টেনে নিয়ে যায়। ১২ বছর পর অদ্ভুত ভাবে স্বামী ভানু ভক্তাকেও নিয়ে গেল বাঘ। এখনও পর্যন্ত ভানুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়নি। ১১ জন সঙ্গীর সামনেই ওই মৌলেকে টেনে নিয়ে গভীর অরণ্যে যায় বাঘ।
এই ঘটনায় শোকে ভেঙে পড়েছে ভানুর পরিবারের লোকজন সহ সমগ্র গ্রামবাসীরা। ঘটনার পর থেকে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও এখনও পর্যন্ত তাঁর জীবিত বা মৃত কোনও সন্ধান মেলেনি। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের পশ্চিম দ্বারিকাপুর এলাকার বাসিন্দা ভানু ভক্তা বৈধ মৌলে পাস নিয়ে ১১ জন সঙ্গী, যার মধ্যে ছিলেন তিনজন মহিলা, তাঁদের সঙ্গে মধু সংগ্রহের উদ্দেশে কলস দ্বীপ সংলগ্ন জঙ্গলে যান।
সবাই যখন মৌচাকের সন্ধানে ব্যস্ত, সেই সময় হঠাৎ একটি বাঘ ভানু ভক্তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাড়ে কামড়ে ধরে তাঁকে গভীর জঙ্গলের দিকে টেনে নিয়ে যায়। সঙ্গীরা হাতে থাকা লাঠি নিয়ে তাঁকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা চালান। কিন্তু বাঘ বারবার তেড়ে আসায় তাঁরা অসহায় হয়ে পড়েন। পরে বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়েও ভানু ভক্তার কোনও খোঁজ মেলেনি। শেষ পর্যন্ত হতাশ মনেই বাড়ি ফিরে আসেন তাঁর সঙ্গীরা।
এই ঘটনায় আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে ভানু ভক্তার পারিবারিক ইতিহাস। প্রায় ১২ বছর আগে তাঁর স্ত্রী রুমকি ভক্তাও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। দুদিন পর তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। এবার স্বামীর ক্ষেত্রেও একই পরিণতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন পরিবার। এলাকাবাসীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের জঙ্গলনির্ভর জীবিকার সঙ্গে যুক্ত এই অসহায় পরিবারটির পাশে সরকার যেন দাঁড়ায় এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার ব্যবস্থা করে।