• এবার গ্রামেই মিলবে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান, হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন হাজার হাজার শ্রমিক
    News18 বাংলা | ২৬ জুন ২০২৬
  • হাতে তুলে নিলেন কোদাল। কোপ বসালেন মাটিতে। আর সেই মাটি কাটার মধ্যে দিয়েই জঙ্গলমহলে অবসান ঘটল এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার। বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে এভাবেই ফের শুরু হয়ে গেল গ্রামীণ কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্পের কাজ। সাতপাটি অঞ্চলের শঙ্করবাঁধ এলাকায় নতুন পুকুর খননের কাজের সূচনা করতে গিয়ে এদিন নিজেই কোদাল হাতে তুলে নেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক সুকান্ত সাহা। প্রশাসনিক কর্তার এই স্বতঃস্ফূর্ত ভূমিকায় রীতিমত উচ্ছ্বসিত এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শ্রমিকরা।

    দীর্ঘদিন ধরে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকায় চরম সঙ্কটে পড়েছিলেন জঙ্গলমহলের খেটে খাওয়া মানুষ। কাজ না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে অনেককে। পেটের দায়ে কেউ কেউ ভিন্ রাজ্যে কাজের খোঁজে পাড়ি দিয়েছেন, কেউ আবার মহাজনের কাছে ধারদেনা করে বাধ্য হয়ে দিন গুজরান করেছেন। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার অন্ধকারে দেখা গেল আশার আলো। রাজ্য সরকারের ঘোষণামতো ১০০ দিনের বদলে এখন থেকে ১২৫ দিনের কাজ পাবেন গ্রামীণ শ্রমিকরা। এ দিন শঙ্করবাঁধ এলাকায় কাজ পেয়ে শ্রমিকদের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট স্বস্তির ছাপ। স্থানীয়দের কথায়, কাজটা ফের শুরু হওয়ায় আক্ষরিক অর্থেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন তাঁরা।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শঙ্করবাঁধ এলাকায় নতুন এই পুকুর খনন প্রকল্পে আনুমানিক ১৯ লক্ষ ৬১ হাজার ৪৭ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই কাজের মাধ্যমে মোট ৭ হাজার ১৭৩টি শ্রমদিবস তৈরি হবে। ফলে এলাকার বহু মানুষের হাতে আয়ের সুযোগ আসবে। শুধু সাময়িক কর্মসংস্থানই নয়, এই পুকুর খননের ফলে গ্রামে জল সংরক্ষণ ও পরিবেশগত উন্নয়নের মত দীর্ঘমেয়াদী সুবিধাও মিলবে বলে আশা প্রশাসনের।

    এ দিনের সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলাশাসকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। তাঁরা জানান, গ্রামীণ অর্থনীতিকে ফের চাঙ্গা করতে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এই প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত জরুরি ছিল। কৃষি ও শ্রমনির্ভর পরিবারগুলির মুখে হাসি ফোটাতে এই পদক্ষেপ নতুন দিশা দেখাবে। শালবনির শঙ্করবাঁধ দিয়ে এই কাজ শুরু হলেও, প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী দিনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই এই কাজ পুরোদমে শুরু হবে। দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ফের কাজের চাকা ঘুরতে শুরু করায় এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন জঙ্গলমহলের শ্রমিকরা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)