‘নয়ছয়ে’ ক্ষুব্ধ পিএমও, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, দায়ের এফআইআর, কোপের মুখে রামমন্দির ট্রাস্ট!
বর্তমান | ২৬ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রামমন্দিরের জমা পড়া ভক্ত-পুণ্যার্থীদের দানের পূর্ণাঙ্গ হিসাব চেয়ে পাঠিয়েছিল খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পিএমও)। কিন্তু তদন্তের অজুহাতে তা দিতে অস্বীকার করে রামমন্দির তীর্থ ট্রাস্ট। অযোধ্যা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেকথা জানিয়ে দেওয়া হয় পিএমও-কে। এর কয়েকদিনের মধ্যেই রামমন্দিরের দানের টাকা, অলংকার, সোনাদানা নয়ছয়ের সংবাদে আলোড়ন সৃষ্টি হওয়ায় এবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বেজায় ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভের কথা উত্তরপ্রদেশ রাজ্য প্রশাসনকে জানিয়েছে পিএমও। রামমন্দির নির্মাণ আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে যুক্ত বিশ্ব হিন্দু পরিষদও (ভিএইচপি) প্রবল ক্রুদ্ধ। বৃহস্পতিবার সংগঠনের সভাপতি অলোক কুমার দিল্লিতে বলেন, ‘হিন্দু সমাজের সঙ্গে এই ঘটনা ধোঁকার সমান। উত্তরপ্রদেশ সরকারের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) তদন্ত করছে। প্রাথমিক রিপোর্ট জমাও পড়েছে। কিন্তু অবিলম্বে এফআইআর করতে হবে। কোনো সন্দেহ নেই যে, বিরাট বড়ো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। যে মন্দিরের জন্য অসংখ্য করসেবক প্রাণ দিয়েছে, কোটি কোটি হিন্দু অপেক্ষা করেছে ৫০০ বছর ধরে, সেই মন্দিরে রামলালার কাছে সমর্পিত দানের অর্থ-অলংকার যারা চুরি করেছে, তাদের চিহ্নিত করতেই হবে। তিন চার মাসের মধ্যেই আমরা দেখতে চাই অপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে।’
একদিকে ভিএইচপির চাপ, অন্যদিকে পিএমও থেকে দফায় দফায় কঠোর বার্তা পেয়ে অবশেষে তৎপর হয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং রামমন্দির ট্রাস্ট। সিটের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ার দু’দিন পর, বৃহস্পতিবার দানসামগ্রী নয়ছয়ে দায়ের হয় এফআইআর। রাতেই অভিযুক্ত তালিকায় থাকা আটজনকে আটকও করা হয়েছে। এর মধ্যে ছ’জন কোষাধ্যক্ষ। তবে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দায়ের হওয়া সেই এফআইআরে কোনো বড়ো মাথার নাম নেই। জানা যাচ্ছে, রামমন্দির ট্রাস্টের কর্তারা শীঘ্রই ইস্তফা দিতে চলেছেন। ইতিমধ্যেই অযোধ্যায় জল্পনা ছড়িয়েছে ট্রাস্ট কর্তা চম্পত রাইয়ের পদত্যাগের। রামমন্দিরকাণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্তের আরজি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দুই আইনজীবী। আগামী ২৯ জুন সেই আরজি শুনবে শীর্ষ আদালত।
বিজেপি নেতা রজনীশ সিং চলতি মাসের গোড়াতেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছিলেন যে, রামমন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে রামলালার মন্দিরে জমা পড়া দানের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেওয়া হচ্ছে না। এরপরই অযোধ্যা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পিএমও। কিন্তু রামমন্দির ট্রাস্ট জানিয়ে দেয়, দানের বিবরণ দেওয়া যাবে না। কারণ এসআইটি তদন্ত চালাচ্ছে। তাদের বলা হয়, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইছেন। তা সত্ত্বেও অনড় মনোভাব নেয় ট্রাস্ট, যা নিয়ে প্রবল ক্ষুব্ধ পিএমও। গত ১৩ জুন রামমন্দিরকাণ্ডে বিশেষ তদন্ত কমিটি (সিট) গঠন করে উত্তরপ্রদেশ সরকার। দু’দিন আগে সিট প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে তাদের। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটির সামনে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ভক্ত ও পুণ্যার্থীর চিঠি এবং তথ্যপ্রমাণ আসছে। তাতে জানানো হচ্ছে, তারা বিপুল টাকা-গয়না দান করেছেন। অথচ সেই বিপুল পরিমাণ দান ও অলংকারের কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি। রামমন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বারবার অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। গত লোকসভা ভোটে অযোধ্যা থেকে পরাজিত হয়েছে গেরুয়া প্রার্থী। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে ভোট। তার আগে রামমন্দিরের দানসামগ্রী নয়ছয়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে যা নিয়ে প্রচারে ঝাঁপিয়েছে বিরোধীরা। সেই কারণেই তৎপর পিএমও।