সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ‘চোখের পাতা এক করলেই ভেসে উঠছে রক্তমাখা শরীর আর আর্তনাদ। কিছুতেই ভুলতে পারছি না রবিবারের কথা।’ বিছানায় শুয়ে বলতে বলতেই গলাটা কেঁপে উঠল তাপস ঈশোর। তিনি এনবিএসটিসির সেই অভিশপ্ত বাসের কন্ডাক্টার।
কোচবিহারের বাসিন্দা তাপসবাবু এনবিএসটিসি’র সিএনজি বাসের কন্ডাক্টর হয়ে সেদিন ডিউটি করছিলেন। শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারে যাচ্ছিল গাড়িটি। মহিলা যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা, একে একে সকলকে টিকিট দিয়ে টাকা বুঝে নিচ্ছিলেন তিনি। এক যাত্রী তাঁকে ৫০০ টাকার নোট দিয়েছিলেন। সেই টাকার খুচরো দিতে গিয়েছিলেন বাসের একেবারে পিছনের সিটে। তাঁর পাশের আরএক যাত্রী ৪০ টাকা ফেরত পেতেন। দু’জনকেই টাকা দিতে পিছনে দিকে যান।
তাপসবাবু বলেন, ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে ময়নাগুড়ির উল্লাডাবরিতে আসতেই হঠাৎ টায়ার ফাটার মতো বিকট আওয়াজ। সঙ্গে প্রবল ঝাঁকুনি। পিছন থেকে সটান সামনের দিকে ছিটকে আসি। কোমরে মারাত্মক চোট পাই। তখন বাইরে গোঙানি আর আর্তচিৎকার। ঘটনাস্থলে রক্তের বন্যা। এসব দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে যখন চোখ খুলি দেখি আমি জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বেডে। এখনও কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা।
তাঁর সংযোজন, হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়িতেই আছি। প্রাণে বেঁচেছি ঠিকই, কিন্তু চোখ বন্ধ করলে ওসব ছবি ভেসে উঠছে। একটি শিশু মারা গিয়েছে। আমি বাচ্চাটি এবং তার মাকে সিটে বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। শিশুটিকে একটি চকোলেটও দিয়েছিলাম।
বলতে বলতে চোখ ভিজে ওঠে তাপসবাবুর। • তাপস ঈশোর। - নিজস্ব চিত্র।