• শিশুকন্যাকে বধূর কোলে দিয়ে উধাও মহিলা! মেদিনীপুর মেডিকেলে শোরগোল
    বর্তমান | ২৬ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ওষুধ কিনতে যাওয়ার নাম করে আড়াই মাসের এক শিশুকন্যাকে গৃহবধূর কোলে রেখে উধাও হলেন বোরখা পরা এক মহিলা। ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে শোরগোল পড়ে। এই ঘটনায় শিশুপাচার চক্রের কোনো যোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও প্রশাসন। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই মহিলার পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সবংয়ের বাসিন্দা হরেকৃষ্ণ মহাপাত্র মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে ভর্তি রয়েছেন। পাঁচদিন ধরে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বৃহস্পতিবার বাবাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন তাঁর মেয়ে অষ্টমী সামন্ত। হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সময় তাঁর কাছে এসে হাজির হন বোরখা পরা এক মহিলা। ওই মহিলার কোলে আড়াই মাসের এক শিশুকন্যা ছিল। অষ্টমীর দাবি, ওই মহিলা ওষুধ কিনতে যাওয়ার নামে কিছুক্ষণ শিশুটিকে তাঁর কাছে রাখতে বলেন। শিশুটিকে কোলে নেন অষ্টমীদেবী। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ওই মহিলার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। এরপর অষ্টমীদেবী বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। কর্তৃপক্ষও ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। জেলা শিশু সুরক্ষা দপ্তরকেও বিষয়টি জানানো হয়। শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

    শিশুটিকে ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া বোরখা পরা ওই মহিলা কে? তিনি কোথা থেকে হাসপাতালে এলেন? কেনই বা শিশুকে অপরিচিতের হাতে তুলে দিয়ে চলে গেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিশু পাচার চক্র এর পিছনে রয়েছে কি না তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। অষ্টমী বলেন, হঠাৎ করেই ওই মহিলা এসে শিশুটিকে কিছুক্ষণ রাখতে বলেন। তিনি ওষুধ নিয়ে ফিরে আসবেন বলে জানান। আমি শিশুটিকে কোলে নিই। কিন্তু অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও তিনি আর ফিরে আসেননি। মহিলা বোরখা পরে থাকায় তাঁর মুখ দেখতে পাইনি। পরে বিষয়টি পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাই। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের বিভিন্ন প্রান্তে লাগানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই মহিলার গতিবিধি এবং তিনি কোনদিক দিয়ে হাসপাতালে ঢুকেছেন ও বেরিয়ে গিয়েছেন তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক সন্দীপকুমার দাস বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)