সংবাদদাতা, খাতড়া: সরকারি জমি দখল করে বিশাল অট্টালিকা নির্মাণের অভিযোগ উঠল রানিবাঁধের দাপুটে তৃণমূল নেতা গৌরচন্দ্র টুডুর বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামনে আসতেই সাত দিনের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার নোটিস দিলেন রানিবাঁধের বিডিও। নির্দেশ অমান্য করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
গৌরচন্দ্র এলাকায় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা বলে পরিচিত। স্ত্রী জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় প্রভাব খাটিয়ে রানিবাঁধ বাজারে সরকারি জমি দখল করে সেখানে বিশাল অট্টালিকা তৈরি করেন গৌরচন্দ্র। পালাবদলের পর কুকীর্তি সামনে আসে। নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। সেই মতো বাড়ি ছাড়ার নোটিস ধরানো হয় গৌরচন্দ্রকে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ আরও আগে নেওয়া দরকার ছিল বলে দাবি স্থানীয় বিজেপি থেকে সিপিএম নেতৃত্বদের। যদিও এবিষয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে একাধিকবার ফোন করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি। মেসেজ পাঠালেও জবাব মেলেনি।
গৌরচন্দ্রের আদি বাড়ি রানিবাঁধ অঞ্চলের ডাহিদাজাড় গ্রামে। গত বারো-তেরো বছর আগে রানিবাঁধ বাজার এলাকার ৭৫ নং জে এল ভুক্ত রানিবাঁধ মৌজায় ১০১৪ নং দাগে ১২ শতক জায়গা দখল করেন। ওই জায়গায় একটি ফরেস্ট বাংলো ছিল। সেটিও রাতের অন্ধকারে ডিজে বাজিয়ে ভেঙ্গে ফেলেন। সেই সরকারি জমি দখল করে বাড়ি তৈরি করেন তিনি। বাড়ির সামনে থাকা দোকান মালিকদেরও উচ্ছেদের হুমকি দেন। কারণ, ওই নেতার চারচাকা গাড়ি যাতে বাড়ির বাউন্ডারির ভিতর প্রবেশ করতে পারে। এতদিন তৃণমূল নেতার এই অনৈতিক কাজ নিয়ে এলাকায় চাপা ক্ষোভও ছিল।
এদিন ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, গৌরচন্দ্র টুডুর বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁকে সাত দিন সময় দিয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে। তিনি সহযোগিতা না করলে ওই বাড়ি ভেঙে ফেলা হবে। একই সঙ্গে কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
এনিয়ে সিপিএমের বাঁকুড়া জেলা কমিটির সদস্য মধুসূদন মাহাতো বলেন, ‘আমরা গৌরচন্দ্রের সরকারি জমি দখল নিয়ে একাধিকবার প্রতিবাদ, আন্দোলন করেছি। সেই সময় তৃণমূল সরকারে। প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এবার প্রশাসন সরকারি জমি ফেরত নিতে ওই তৃণমূল নেতাকে নোটিস ধরিয়েছেন। এটা ভালো পদক্ষেপ।’ বিজেপি নেতা কৌশিক মুদি বলেন, ‘গৌরচন্দ্র টুডু তৃণমূল সরকারের সময় রানিবাঁধের প্রথম শ্রেণির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তাঁর স্ত্রীও জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি ছিলেন। সেই প্রভাব খাটিয়ে রানিবাঁধ বাজারে সরকারি জমি দখল সহ ওই স্থানে থাকা ফরেস্ট বাংলো ভেঙ্গে অট্টালিকা তৈরি করেন। তাঁর বাড়ির সামনের দোকান মালিকদেরও সরে যেতে হুমকি দেন। রানিবাঁধের সাধারণ মানুষ সহ আমরা দলীয় ভাবে বার বার দখলমুক্ত করা নিয়ে আন্দোলন করেছি। পালা বদলের পর রানিবাঁধ ব্লক প্রশাসন সরকারি জমি ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে। আমরা খুশি।’