মুখ্যমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশেও নিষ্ক্রিয় কারিগরি শিক্ষাদপ্তর, বৈষম্য, দুর্নীতির প্রতিবাদ করে দুই শিক্ষক ১০ মাস বেতনহীন
বর্তমান | ২৬ জুন ২০২৬
অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: কারিগরি শিক্ষাদপ্তরের প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে বদলির শিকার। তারপরে হাইকোর্টে মামলা। তাতে জিতেও বাড়ি থেকে ৩৬০ কিমি দূরে বদলির চিঠি পেয়েছেন একটি পলিটেকনিক কলেজের অস্থায়ী লেকচারার দীপ্ত সেন। একই ‘অভিযোগে’ বাড়ি থেকে ১৬০ কিমি দূরে বদলি হয়েছেন স্বপনকুমার সাউ নামে আরেকজন অস্থায়ী লেকচারার। এই বদলির নির্দেশের প্রতিবাদ করে কাজে যোগ না দেওয়ায় তাঁরা ১০ মাস বেতনহীন হয়ে পড়ে রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে গিয়ে সরাসরি এই অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বদলি রদ করে পুরানো কর্মস্থলে ফেরানোর নির্দেশ দিলেও দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশ সেটি আটকে রেখেছেন।
তাঁদের অভিযোগ, তাঁরা পার্ট টাইম লেকচারার হিসাবে যোগ দিলেও এখন আর সে ধরনের পোস্ট পলিটেকনিকে নেই। তাঁরা আর ক্লাসভিত্তিক সাম্মানিক নয়, থোক টাকাই ভাতা হিসাবে পান। অন্যান্য কাজকর্মও চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের মতোই। তাঁদের বদলিও করা হচ্ছে। তবে, সাম্মানিক দেওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক লেকচারারদের অর্ধেকেরও কম পান তাঁরা। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার ডিগ্রি করা দীপ্ত সেন পান ২১ হাজার টাকা ভাতা। আর স্বপনবাবুর ভাতা মাত্র ১৬ হাজার টাকা। তা সত্ত্বেও তাঁদের চুক্তিভিত্তিক বা স্থায়ী শিক্ষকদের মতোই দূরের জেলায় বদলি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অযোগ্য, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুনর্নিয়োগ দিয়ে পলিটেকনিকে রেখে দেওয়া হচ্ছে। প্রিন্সিপাল-ইন-চার্জের দায়িত্বেও আনা হয়েছে বহু অযোগ্য শিক্ষকদের। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করাতেই প্রথমে হাবড়ার বাসিন্দা, ক্যালকাটা টেকনিক্যাল স্কুলের (সিটিএস) দীপ্তবাবুকে বজবজ পলিটেকনিকে গিয়ে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে মামলা লড়ে তিনি জয়ী হন।
নিয়মমতো সপ্তাহের প্রতিদিন ক্লাস নেওয়া, প্রশ্নপত্র তৈরি, পরীক্ষাগ্রহণের মতো কাজ করলেও তাঁদের নামমাত্র ভাতা দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে মামলায় মূল পিটিশনার ছিলেন দীপ্তবাবু। সেই কারণেই বারবার তাঁর উপর শাস্তির খাঁড়া নেমে এসেছে বলে অভিযোগ। এখন তাঁকে আরো দূরে বদলি করায় প্রতিবাদে তিনি সেখানে যাননি। তবে, এর জন্য তাঁর ভাতা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্য অনেকের প্রতিনিধি হয়ে লড়াই করতে গিয়ে নিজের সংসার নিয়ে অথই জলে পড়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাননি কারিগরি শিক্ষা ডিরেক্টরেটের এক শীর্ষ কর্তা। এ প্রসঙ্গে কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়াও পাওয়া সম্ভব হয়নি।