• চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানের ইস্তফা, ভাঙল চুঁচুড়ার পুরবোর্ড, শ্রীরামপুর ও রিষড়া পুরসভাকে কড়া হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর
    বর্তমান | ২৬ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তৃণমূল পরিচালিত চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদত্যাগ করায় ভেঙে গেল নির্বাচিত বোর্ড। বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ এবং ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা। কাউন্সিলার পদ থেকেও ইস্তফা দেন তাঁরা। পুরসভা সূত্রে খবর, এদিন পুরসভায় বোর্ড মিটিং ছিল। সেই মিটিংয়েই ইস্তফা দেন চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান। সেই ইস্তফার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে সদরের মহকুমা শাসককে। তবে দু’জন সরে গেলেও তৃণমূলের বাকি কাউন্সিলাররা আলাদা করে বৈঠকে বসে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিতে পারেন বলে জল্পনা। 

    ২০২২ সালে পুরসভা নির্বাচন হয়। চুঁচুড়া পুরসভার ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিতে জয়লাভ করেছিল তৃণমূল। একটি ওয়ার্ডে জয়ী হয় সিপিএম। তৃণমূল চেয়ারম্যান করে অমিত রায়কে। ভাইস চেয়ারম্যান করা হয় পার্থ সাহাকে। লোকসভা নির্বাচনে চুঁচুড়ায় প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল। এরপর ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর অমিত রায়কে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে সৌমিত্র ঘোষকে ওই পদে বসানো হয়। এবার সেই পদ থেকেই সরে দাঁড়ালেন চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ। পদত্যাগ করার পর পুরপ্রধান জানান, বর্তমানে রাজনীতি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর্যায়ে নেই। রাজনীতি এখন শত্রুতায় পরিণত হয়েছে। আদর্শের লড়াই থেকে প্রতিহিংসাই বেশি। রাজ্যে পালাবদলের পর আমাকে গ্রেপ্তার ও দু’টি মামলা দেওয়া হয়েছে। তাই এই পথ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।

    এদিকে, শ্রীরামপুরের বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রীরামপুর ও রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যানের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিষেবা না দিতে পারলে আপনারা পদত্যাগ করুন। এলাকায় কোনো অনিয়ম, মানুষের অসুবিধা এই সরকার মেনে নেবে না। আমার ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। মানুষ যা চাইছেন, এবার তাই হবে। ভাস্করবাবু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, শ্রীরামপুর ও রিষড়া দু’টি পুরসভাই শ্রীরামপুর বিধানসভার অন্তর্গত। পরিষেবা দেওয়া নিয়ে দুই পুরসভার প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান কয়েকটি জায়গায় পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে সব জায়গায় তিনি পরিষেবা দিতে পারছেন না। মানুষ যদি পরিষেবা না পায়, তাহলে আপনাদের উচিত পদত্যাগ করা।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)