নাজিরাবাদ কাণ্ড: পাঁচ মাস পরও শনাক্ত হয়নি ১০ জনের নমুনা
বর্তমান | ২৬ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পাঁচ মাস শেষ হতে চলেছে। নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরাবাদের জোড়া গোডাউন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত ২৭ জনের মধ্যে অন্তত ১০ জনের দেহাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষা করেও হিমশিম খেতে হচ্ছে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের। স্বজন হারানো পরিবারের হাতে দেহাংশ টুকু এখনও তুলে দেওয়া যায়নি। ফলে এরা কেউই ডেথ সার্টিফিকেট পায়নি। আগের সরকার যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিল, সেটাও মেলেনি বলে দাবি পরিবারগুলির। সেই সব পরিবারের সদস্যরা এখন চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় আছেন। এদিকে জানা গিয়েছে, রাজ্য ফরেনসিক বিভাগ থেকে রিপোর্ট না আসায় এই ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ করা যাচ্ছে না।
২৬ জানুয়ারি ভোরে একটি ডেকোরেটর্স কোম্পানি ও মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার গোডাউনে আগুন লেগে জীবন্ত দগ্ধ হন ২৭ জন। হাড়গোড় অথবা মাংসের পিণ্ড ছাড়া সেভাবে কিছুই পাওয়া যায়নি। দেহ চিহ্নিত করতে সেসবের নমুনা পাঠানো হয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য। মৃতদের পরিবার থেকে নেওয়া হয়েছিল ডিএনএ নমুনাও। সব দেহাংশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পর প্রথম ধাপে মৃত ১৭ জনের দেহাংশ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বাকি ১১ জনকে নিয়েই ছিল চ্যালেঞ্জ। পুলিশ সূত্রে খবর, এদের দেহাংশ যেভাবে একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল তাঁদের আলাদা করে ডিএনএ পরীক্ষা করা কার্যত কঠিন ছিল। তার মধ্যেও একজনের নমুনা মিলে যায়। কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে এখনও শনাক্ত করা যায়নি। আগুনে পুড়ে মৃত দেবাদিত্য দিন্দার কাকা জন্মেজয় দিন্দা বলেন, শুনেছি প্রায় ১০ জনের দেহাংশ চিহ্নিত হয়নি এখনও। আমরা আশা ছাড়ছি না। পুলিশের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করছি, দ্রুত কিছু হবে। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলব। আগের সরকার ঘোষণা করেছিল যে মৃতদের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হবে। সেটাও বাস্তবায়িত হয়নি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।