দাদাদের কাজ দেখতে গিয়েই প্রাণ গেল বাসন্তীর সাহিলের, দুই শ্রমিকের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ভাটপাড়া
বর্তমান | ২৬ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারাকপুর: মামাতো দাদারা কাজ করত কলকাতায়। সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল বাসন্তীর ১৭ বছরের সাহিল সর্দার। বুধবার সে ইচ্ছা প্রকাশ করে, দাদাদের সঙ্গে তাঁদের কর্মস্থল ঘুরে দেখবে। রাজিও হন সবাই। তারাতলার সেই গোডাউনে কাজ করতেন সাহিলের দাদারা। বুধবার সবাই মিলে সেখানে যান। গোডাউনের ভিতরে ঢুকতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সেটি। দাদাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করা গেলেও সাহিলের নিথর দেহ বের করে আনা হয় ধ্বংসস্তূপ থেকে।
মৃতের দাদু সাজ্জাদ সর্দার বলেন, নাতি বাড়িতে বলেছিল, কলকাতা দেখিনি তাই দাদাদের কাছে যাবে। সেই মত চারদিন আগে কলকাতায় গিয়েছিল। সোমবার ফিরে আসবে বলেছিল। কিন্তু পরে মত বদল করে থেকে যায় ওখানে। বুধবার দাদাদের কাজের জায়গা দেখবে বলে গিয়েছিল ওদের সঙ্গে। কিন্তু এমন পরিণতি হবে ভাবতে পারছি না। সাহিলের বাড়ি বাসন্তীর রামচন্দ্রখালি। গতবছর দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার দেয়নি সে। দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ার পর পড়াশোনা ছেড়ে দেয় ওই কিশোর। ঠেলা গাড়িতে হকারি করত সে। দাদু আক্ষেপের সুরে জানান, পা ভেঙে যাওয়ার পর কোথায় কাজ পাবে কি না, সেই নিয়ে চিন্তায় ছিল ও। বাড়িতে ছোটো ভাই আছে। বাবা দিন মজুরের কাজ করে। এই শোক সহ্য করা কঠিন।
গোডাউন বিপর্যয়ে মৃতদের মধ্যে দু’জনের বাড়ি ভাটপাড়ায়। কৃষ্ণ চৌধুরীর বাড়ি ভাটপাড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা পাড়ায়। পাপ্পু কুমার রজকের বাড়ি ভাটপাড়ার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ নগরে। পাপ্পু রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাঁর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে পুষ্পার দাবি, বাবা একমাস আগে কলকাতায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন। পাপ্পুর স্ত্রী শিল্পী রজক বলেন, একমাত্র মেয়েকে অনেক কষ্টে পড়াচ্ছিল ওর বাবা। এখন কীভাবে সংসার চলবে। পুষ্পার দাবি, পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হোক।
কৃষ্ণ চৌধুরীর মৃত্যুর খবর শুনে ভেঙে পড়েছে গোটা এলাকা। তিনি ভাটপাড়া জুট মিলে কাজ করতেন। বুধবার ওই গোডাউনে কাজ করতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণ চৌধুরীর নিথর দেহ বাড়ি পৌঁছয়। কৃষ্ণর স্ত্রীও সরকারি সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘বুধবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ স্বামী ফোন করে জানতে চেয়েছিল, বাচ্চারা টিফিন খেয়েছে কি না? বলেছিল, ওরা যা চাইবে খাইয়ে দিও। কিন্তু তারপর এমন দুঃসংবাদ আসবে তা ভাবতে পারিনি।’ পরিবহণ মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অর্জুন সিং দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।