নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বর্ষার শুরুতেই জলের তলায় বারাসত পুরসভার একাধিক রাস্তা। এমনিতেই রাস্তার পিচ উঠে তৈরি হয়েছে বড়ো বড়ো গর্ত। কোথাও কোথাও জল জমা সেই রাস্তা ও পুকুরের মধ্যে ফারাক করাই কঠিন। এমনকি জেলাশাসকের দপ্তর সংলগ্ন ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র সরণির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাও বেহাল। এদিকে রোজ হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করেন। জেলাশাসকের দপ্তর, জেলা আদালত, জেলা পরিষদ, বাজার, স্টেশন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে পৌঁছতে এই রাস্তার উপর নির্ভর করতে হয় সাধারণ মানুষকে। অথচ বর্ষার কয়েক পশলা বৃষ্টিতেই সেই রাস্তার একাধিক অংশ জলমগ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র সরণি নয়, শহরের একাধিক ওয়ার্ডেই একই চিত্র। দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তার সমস্যা রয়েছে। বর্ষা এলে সেই সমস্যা ভয়াবহ রূপ নেয়। সাইকেল, মোটরবাইক, অটো, টোটো থেকে শুরু করে চারচাকা যানবাহনের চালকদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক জায়গায় হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ দে’র বক্তব্য, জেলা সদর শহরের রাস্তার যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে পরিষেবার প্রকৃত ছবিটা সহজেই অনুমান করা যায়। জেলা প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা যাতায়াত করেন, রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। সেই রাস্তারই এই হাল? দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে বারাসত বিধানসভায় এবার বিজেপির বিধায়ক। বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়ের কাছে উন্নয়ন নিয়ে প্রত্যাশা বেড়েছে মানুষের। এনিয়ে বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নির্দেশিকা না মেলায় কাজ এগচ্ছে না। তবে এ নিয়ে বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়ের কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। দুর্ভোগের মধ্যেই প্রশ্ন, বারাসতের উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা কবে বাস্তবের মাটিতে দেখা যাবে?-নিজস্ব চিত্র