• মুর্শিদাবাদ পুরসভায় এক যোগে পদত্যাগ ১২ জন কাউন্সিলারের
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২৬
  • লালবাগ: ইস্তফা দেওয়ার হিড়িক পড়ল মুর্শিদাবাদে। এই প্রথম জেলায় একসঙ্গে ১২ জন কাউন্সিলার ইস্তফা দিলেন। বৃহস্পতিবার, মুর্শিদাবাদ পুরসভার তৃণমূলের ১১ জন ও এক জন নির্দল কাউন্সিলার লালবাগ মহকুমাশাসক পূজা মিনার কাছে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন। যদিও মুর্শিদাবাদের পুরপ্রধান পদ থেকে ইন্দ্রজিৎ ধর গত ১৮ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কিন্তু কাউন্সিলার পদ ধরে রেখেছিলেন। এ দিন ইন্দ্রজিৎও কাউন্সিলার পদ ছেড়েছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২২-এর পুরভোটে মুর্শিদাবাদ পুরসভার ১৬ আসনের মধ্যে তৃণমূল ৯, বিজেপি ৬ এবং এক জন নির্দল প্রার্থী জিতেছিলেন। পুরপ্রধান হন ললিতা দাস নন্দী। এক বছরের মধ্যে তৃণমূলের পুরপ্রধানকে হটাতে চেয়ে তৃণমূলের সাত জন কাউন্সিলারের সঙ্গে বিজেপির তিন জন কাউন্সিলার অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেন।

    পরে অনাস্থার পক্ষে ভোট পড়ে ১০টি। আর বিপক্ষে ছিলেন ছ'জন। নতুন পুরপ্রধান হন ইন্দ্রজিৎ। এত দিন বিজেপির তিন কাউন্সিলারের কাঁধে ভর দিয়ে পুরবোর্ড চালানোর পরে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই ইন্দ্রজিৎ পুরপ্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

    নির্দল কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ দে ওরফে মিন্টা বলেন, 'তৃণমূলের ন'জন কাউন্সিলারের সঙ্গে বিজেপির তিন জন কাউন্সিলার যোগ দেন। ফলে পুরসভায় তৃণমূলের কাউন্সিলারের সংখ্যা বেড়ে হয় ১২ জন। কিন্তু বছর খানেক আগে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলার নিউটন রায় মারা যাওয়ায় বর্তমানে ওই সংখ্যা ছিল ১১ জন।' এ দিন নির্দলের বিশ্বজিৎ ও তৃণমূলের ললিতা একা গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন। এর পরে বাকি ১০ জন একসঙ্গে গিয়ে লালবাগ এসডিও-র কাছে তাঁদের ইস্তফাপত্র দিয়েছেন।

    বিশ্বজিৎ দে জানান, পুরসভায় কাজের পরিবেশ ছিল না। তাই ইস্তফা দেন তিনি। পুরসভার উপ-পুরপ্রধান মেহেদি আলম মির্জা বলেন, 'ইস্তফা দেওয়ার বিশেষ কারণ নেই। সকলে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমিও স্বেচ্ছায় দিয়েছি।' এখন একসঙ্গে এত সংখ্যক জনপ্রতিনিধির ইস্তফার ফলে পুরসভার প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। আপাতত অচলাবস্থা কাটাতে প্রশাসক বসানো এখন সময়ের অপেক্ষা!

  • Link to this news (এই সময়)