এই সময়, দুর্গাপুর: ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে ছিল কন্টেনার গাড়িটি। জিপিএস ট্র্যাক করে যখন পরিবহণ সংস্থার মালিক ও পুলিশ সেখানে পৌঁছলেন, তখন চালকের কেবিন ফাঁকা। কন্টেনারের দরজা খুলে হতভম্ব হয়ে যান তাঁরা। ভিতরে একটা সুতোও অবশিষ্ট নেই। উধাও হয়ে গিয়েছে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার বহুমূল্য রেডিমেড পোশাক। হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে কলকাতায় আসার পথে মাঝরাস্তাতেই ঘটে গিয়েছে হাইওয়ে-ডাকাতি!
তবে অপরাধীরা শেষরক্ষা করতে পারল না। দুই রাজ্যের পুলিশের যৌথ অপারেশনে শেষপর্যন্ত হদিশ মিলেছে সেই পোশাকের। এই আন্তঃরাজ্য পণ্য লোপাট চক্রের তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করেছে কাঁকসা থানার পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবহন সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার একটি নামী পরিবহণ সংস্থার কন্টেনারে ওই পোশাক গুরুগ্রাম থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কন্টেনারটির চালক ছিলেন ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলার বরকট্টা থানার বাসিন্দা পবন যাদব। ৩১ মে বরকট্টা এলাকাতেই গাড়ি থেকে নেমে যান পবন। এর পরে জাভেদ আনসারি নামে অন্য এক চালক গাড়িটি নিয়ে কলকাতার দিকে রওনা দেন।
১ জুন পশ্চিমবঙ্গের কাঁকসা থানা এলাকার ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বাঁশকোপা টোলপ্লাজ়ার কাছে এসে গাড়িটি হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, চালক জাভেদ আনসারি গাড়িটি রাস্তার ধারে ফেলে রেখেই চম্পট দেন।
গাড়িটি দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকায় সন্দেহ হয় পরিবহণ সংস্থা কর্তৃপক্ষের। তাঁরা জিপিএস ট্র্যাকিং মারফত জানতে পারেন যে কন্টেনারটি বাঁশকোপা টোলপ্লাজ়ার কাছে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আছে। সংস্থার মালিক ও কর্মীরা তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটি উদ্ধার করলেও, কন্টেনারের দরজা খুলে হতভম্ব হয়ে যান। দেখা যায়, ভিতরের ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার সব পোশাক গায়েব, কন্টেনারটি সম্পূর্ণ ফাঁকা!
তৎক্ষণাৎ পরিবহণ সংস্থার পক্ষ থেকে কাঁকসা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, হরিয়ানা থেকে আসার পথে ঝাড়খণ্ডের দেওঘর জেলার পত্রোলি থানা এলাকায় কন্টেনারটি থামানো হয়েছিল। সেখানেই সুপরিকল্পিত ভাবে সব পোশাক নামিয়ে নিয়ে, তা অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল।
পরিবহণ সংস্থার কর্ণধার খেমরাজ বাড়াল বলেন, ‘বরকট্টা থেকে যে নতুন চালক গাড়িতে উঠেছিল, সে-ই মূলত পত্রোলি থানা এলাকায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে সব পোশাক লুট করেছে। এর পিছনে একটি বড়সড় পণ্য লোপাট চক্র সক্রিয় রয়েছে। এর তদন্তে গত ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে কাঁকসা থানা এবং ঝাড়খণ্ডের পত্রোলি থানার পুলিশ আমাদের ভীষণ ভাবে সহযোগিতা করেছে।’
বর্তমানে কন্টেনার গাড়িটি কাঁকসা থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক হওয়া দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং দ্রুত সব পোশাক উদ্ধার করা সম্ভব হবে।