• ‘বাবা বলেছিল আজ আসবে’, আলো নিভল গণেশের বাড়ির
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২৬
  • এই সময়, আসানসোল: বৃহস্পতিবারই বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর, কিন্তু এখন ফিরবে নিথর দেহ। কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার দুর্ঘটনার জেরে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলার নিরসা বিধানসভার শালুকচাপড়া গ্রামে এখন শুধুই কান্নার রোল। এই গ্রামের বাসিন্দা গণেশ কালিন্দী (৪৫) বুধবারের ওই দুর্ঘটনার পরে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন। অথচ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তাঁর স্ত্রী বা সন্তানরা জানতেনই না যে, গণেশ আর বেঁচে নেই।

    কিশোর ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা আর যৌথ পরিবারের খরচ টানতে গণেশের উপার্জনের উপরেই ভরসা করত গোটা পরিবার। গণেশের মেয়ে, কলেজ ছাত্রী মৌমিতা কালিন্দী চরম দুশ্চিন্তা নিয়ে এ দিন বলেন, ‘বুধবার কলকাতার একটি হাসপাতাল থেকে ফোন আসে যে, বাবা একটি দুর্ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার বেশি আর কিছু বলা হয়নি।’

    মৌমিতা আরও জানায়, তাঁর বাবা আগে গুজরাটে কাজ করতেন। ২৫ দিন আগে জ্যাঠতুতো দিদির বিয়ে উপলক্ষে বাড়ি এসেছিলেন। তার পর মাত্র ১৫ দিন আগে কলকাতার এই সংস্থায় কাজে যোগ দেন। বুধবার সকাল ১০টাতেও বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল মৌমিতার। জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবারই বাড়ি ফিরবেন। কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে মৌমিতা বলে, ‘বাবা সময় পেলেই আমার সঙ্গে কথা বলতেন, আমিও নিজে থেকে ফোন করতাম।’

    গণেশের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। মেজো মেয়ে মৌমিতা কলেজে পড়েন, সেজো মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং একমাত্র ছেলে জগন্নাথ প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। গণেশের বৃদ্ধ বাবা কালিপদ কালিন্দী একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। এই বাড়িতেই থাকেন গণেশের জেঠা-জেঠি ও তাঁদের সন্তানরা। জেঠা তেমন কিছু করেন না। ফলে গণেশের মৃত্যুতে গোটা পরিবার এখন অথৈ জলে। বর্তমানে মৌমিতার পিসেমশাই ও পিসতুতো দাদা কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। বাড়ি জুড়ে শোকের এমন আবহ যে, গণেশের স্ত্রী লক্ষ্মী কালিন্দী ও সন্তানরা কথা বলার অবস্থায় নেই। প্রতিবেশীদের চোখেও জল।

    পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে নিরসার সিপিএম নেতা অরূপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো গণেশের দেহ সসম্মানে তাঁদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা। আমি নিজেও প্রয়োজনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলব। ঠিকঠাক অর্থ সাহায্য না–পেলে গোটা পরিবারটাই চরম সঙ্কটে পড়বে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যেটুকু করার, সেই কাজের জন্য সবসময়ে পাশে থাকব।’

  • Link to this news (এই সময়)