দেবাশিস দাস
শিফট বদলের সাইরেন তখনও বাজেনি কোনও কারখানায়। বিপদের বার্তা দিতে কোনও ফ্যাক্টরিতে বাজেনি বিপদ ঘণ্টিও। তবুও ভূমিকম্প হয়েছে ভেবে সোমবার দুপুরে তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের বিভিন্ন কারখানার কর্মীরা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন নিজেদের কাজ ফেলে।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরে বৃহস্পতিবার দুপুরেও তাঁদের চোখেমুখে ছিল সেই আতঙ্কের ছাপ। শুধু কারখানার কর্মী নন, তারাতলা শিল্পাঞ্চলের ছোট্ট শ্রমিক মহল্লার গৃহবধূরাও রান্নাবান্না ফেলে বাচ্চাদের কোলে নিয়ে নেমে আসেন রাস্তায়। তাঁরাও ভেবেছিলেন ভূমিকম্পে ভেঙে পড়ছে সব।
খানিক পরে অবশ্য তাঁদের ভুল ভাঙে। সকলে বুঝতে পারেন, ভূমিকম্প হয়নি, ভেঙে পড়েছে 'চা ফ্যাক্টরি'–র ভিতরে নির্মীয়মাণ গোডাউনের বিশালাকার ছাদ। পরিজনদের কেউ ভিতরে আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজতে স্থানীয়দের অনেকেই ঢুকে পড়েন অকুস্থলে।
শ্রমিক মহল্লার বাসিন্দা অজয় রাম বলেন, 'ছাদ ভেঙে পড়ার পরে ওই কোম্পানির চত্বরে ঢুকি। দেখতে পাই, সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতর থেকে হাত উঁচিয়ে আছেন দু'জন। আমরা কয়েক জন তাঁদের উপরে তুলে আনি। ওঁদের কোনও আঘাত লাগেনি। তবে ওঁরা জানান, ভূমিকম্পে ছাদ ভেঙে পড়েছে ভেবে বাঁচতে সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে ঢুকে যান।'
স্থানীয় একটি ব্যাটারি কারখানার কর্মী চেতলার বাসিন্দা নীলাদ্রি পাড়ুইয়ের বক্তব্য, 'আমরা কাজ করছিলাম। দুপুর সওয়া বারোটা নাগাদ বিকট একটা শব্দে কেঁপে ওঠে কারখানার বিল্ডিং। আমাদের সব কর্মী নেমে আসেন রাস্তায়। পরে বোঝা যায় আসলে কী হয়েছে।' খেলনা প্যাকেজিংয়ের গুদামে কাজ করেন গার্ডেনরিচের বাসিন্দা মইনউদ্দিন খান। তাঁর কথায়, 'এখানে বড় ট্রেলারের টায়ার ফাটার শব্দ শুনতে আমরা অভ্যস্ত। তবে সোমবার দুপুরের বিকট শব্দ এর আগে কখনও শুনিনি। যা শুনে সবাই প্রথমে ভেবেছিল ভূমিকম্প হয়েছে। ভয়ে কারখানা, গুদাম ছেড়ে সবাই বেরিয়ে এসেছিলেন। আতঙ্কের জেরে রাতে ঘুম হয়নি।'
শ্রমিক মহল্লার গৃহবধূ মিনা সাউ বলেন, 'রান্না চাপিয়েছিলাম উনুনে। মেয়েটা ঘরের মেঝেতে বসে খেলছিল। দুপুরে বিকট এক শব্দে কেঁপে ওঠে, ঘরের মেঝে ও দেওয়াল। ভূমিকম্পের আতঙ্কে মেয়েটাকে কোলে তুলে রাস্তায় চলে আসি। লোকের কাছে শুনি, চা কারখানায় ছাদ ভেঙে পড়েছে।' ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের আরও দুই গুদামের কর্মী তপন চক্রবর্তী ও মনোরঞ্জন হালদার জানান, ভূমিকম্প হয়েছে ভেবে সোমবার দুপুরে সারা তল্লাট রাস্তায় নেমে আসে। কারখানার ভিতরে ঢুকে আমরা দেখি, অনেকে চাপা পড়ে আছে। তারপরে পুলিশ এসেব্যবস্থা করে।