আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাস পেরিয়ে গেলেও, থিতু হচ্ছে না জোড়া ফুলের বাগানের ধস। উলটে মমতা ব্যানার্জি যতই ধরে রাখার চেষ্টা করুন না কেন, একে একে হাত ছাড়ছেন বহু নেতা। তাঁর সাধের অরূপ-ববি-সুদীপরা আজ্ঞেই অন্য গোষ্ঠীতে ভিড়েছেন। যে কয়েকজন আছেন, তাঁদের নিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছেন নেত্রী। তারমাঝেই ফের খাস কলকাতায় দল ছাড়লেন এক নেতা।
বিশ্বরূপ দে। ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড, কলকাতা পুরসভার পৌর প্রতিনিধি ছিলেন। বৃহস্পতিবার হাজির হয়েছিলেন, উত্তর কলকাতার 'আমরা বেইমান নই' সভাতেও। কিন্তু ছন্দপতন রাত বাড়তেই। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে 'ভারাক্রান্ত' বিশ্বজিৎ জানান, বিবেকের দংশনে ত্যাগ করছেন জোড়াফুল সংস্পর্শ। কারণ হিসেবে তারাতলার ঘটনার উল্লেখ করেছেন। জানিয়েছেন, আগামী দিনে হয়ট আরও প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।
ভিডিও পোস্ট করে কী বললেন ওই তৃণমূল নেতা? বলেন, 'একটার পর একটা ঘটনায় যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস, জোড়াফুল জড়িয়ে পড়ছে, তা চোখে দেখা যায় না। বিশ্বাস করা কঠিন। তারাতলায় গত ৪৮ ঘণ্টায় যা ঘটল, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যনক বললে কম বলা হবে।' তারাতলা ঘটনা প্রসঙ্গে নিজের দলের প্রকাতন মেয়রকে নিশানা করেছেন তিনিও। কলকাতা পুরসভায় তিনই যে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী সেই দলের গাফিলতির কথা বলেছেন, তারাতলার ত্রুটিপূর্ণ নকশার কথাও উল্লেখ করেছেন ভিডিও বার্তায়।
সঙ্গাই নিজের সিদ্ধান্ত হিসেবে জানিয়েছেন, 'আমি তাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, তৃণমূল কংগ্রেস আর করা যাবে না। জোড়াফুল চিহ্নটাও পরিত্যাগ করতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস, জোড়াফুল, এই দুটির সঙ্গে আর নিজেকে জড়িয়ে রাখতে চাই না। শুধু তো একটা তারাতলা নয়, গার্ডেনরিচ ঘটেছে, আরও অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমার বিবেক বলছে তৃণমূল কংগ্রেস, জোড়াফুল ত্যাগ করে নিজস্ব পথে আগামী দিনে চলাই বোধহয় সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।'
একেবারে শেষে তিনই আরও বলেন, 'এই যন্ত্রণার মধ্যে দাঁড়িয়ে একটা কথাই বলব, যা করেছি, ভুল করেছি, আগামী দিনে হয়ত আর প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।' ভিডিওর শেষে লিখেছেন, '"যতই বড় হোক রাত্রি কালোজানবে ততোই কাছে ভোরের ও আলো"তারাতলার ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমার নীরব প্রতিবাদ।'
একে একে নেতাদের ছেড়ে যাওয়ায়, আরও নিঃসঙ্গ হচ্ছে কালীঘাট তৃণমূল।