• 'কী ভাবে চলবে পড়াশোনা? মা কীভাবে থাকবে?', তারাতলা দুর্ঘটনায় বাবাকে হারিয়ে ভবিষ্যতের চিন্তা মেয়ের
    News18 বাংলা | ২৬ জুন ২০২৬
  • তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামে ভেঙে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ভাটপাড়া পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ নগরের বাসিন্দা পাপ্পু কুমার রজক (৪০)। মৃতদের মধ্যে জগদ্দল ও ভাটপাড়া এলাকার শ্রমিকরাও রয়েছেন।

    দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে পাপ্পুর পরিবার ও এলাকাজুড়ে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র এক মাস আগে এক ঠিকাদারের মাধ্যমে ওই কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন পাপ্পু। তার আগে এলাকায় ঘুরে ঘুরেই কাজ করতেন। এদিনও প্রতিদিনের মতো কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিকেলের মধ্যেই পরিবারের কাছে পৌঁছয় মৃত্যুসংবাদ।

    তারাতলা থানার পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসার জন্য জানানো হয়। মৃতের পরিবারের সদস্য অশোক রজক বলেন, “পাপ্পুই ছিল পরিবারের অন্যতম ভরসা। এখন এই পরিবারের কী হবে! সরকার ওদের পাশে দাঁড়াক। পাশাপাশি এই ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।” স্বামীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী শিউলি রজক। তিনি বলেন, ”আমার মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল ওর বাবার। এখন সংসার কীভাবে চলবে জানি না। সরকার যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়, এটাই আবেদন।”

    বাবার মৃত্যুতে স্তব্ধ কন্যা পুষ্পা রজক। চোখের জল নিয়েই সে জানায়, ”আমি এখনও পড়াশোনা করি। বাবাকে হারিয়ে এখন আমার একটাই লক্ষ্য, মাকে দেখাশোনা করা। সরকার যেন আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।” এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও মৃত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিও উঠতে শুরু করেছে এলাকাবাসীদের তরফে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)