তারাতলায় বেড়েই চলেছে মৃত্যু, ৪৫ ঘণ্টা ধরে লোহা-কংক্রিটের নীচে আর কি কেউ বেঁচে?
আজ তক | ২৬ জুন ২০২৬
ঘটনার পর থেকে পেরিয়ে গিয়েছে ৪৫ ঘণ্টা। এখনও তারাতলার প্রাণঘাতী কংক্রিটের নীচে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে কয়েকজন শ্রমিকের। এদিকে, বাড়ছে মৃত্যুও। ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে SSKM হাসপাতাল সূত্রে। দুর্যোগে বৃহস্পতিবার খানিক থমকালেও সারারাত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ভিতরে কেউ আটকে আছেন কি না তার খোঁজ চালিয়েছে সেনা। শুক্রবার সকালে উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে রেলও। অক্সিকাটার যন্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে রেলের আধিকারিকরা কংক্রিটের চাঁই কাটার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
তারাতলার বি২ ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের গোডাউনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত আরও ৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪। তার মধ্যেই রয়েছেন হাসপাতালে ভর্তি থাকা গুরুতর আহদের মধ্যে একজন। SSKM -এর বাইরে প্রিয়জনদের হাহাকার বাড়ছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের দেখা যাচ্ছে আধার কার্ড হাতে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে। তবে তাঁদের আশা ক্রমশই ক্ষীণ হচ্ছে। ৪৫ ঘণ্টা কংক্রিটের স্তূপে চাপা থাকার পর আদৌ কতজনের দেহে প্রাণ অবশিষ্ট রয়েছে, তা নিয়ে আশঙ্কায় সকলেই।
১২২৬ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে থাকা এই গোডাউনের ধ্বংসস্তূপের আনাচে–কানাচে কোথায় এখনও রয়েছে প্রাণের স্পন্দন, সেটা খুঁজে বের করাই এখন উদ্ধারকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষ আলোর ব্যবস্থা করে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চলেছে বৃষ্টির রাতে। তবে প্রবল বজ্রপাত উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। বুধবার দুপুরে যখন ওই নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ে, তখন ঠিক কত জন শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন, তাঁদের কত জন এখনও নিখোঁজ, সেই সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, কতজন শ্রমিক ওই গোডাউনের নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন এবং সেদিন ঠিক কতজন ভিতরে ছিলেন, তার কোনও রেজিস্টারই মেনটেন হতো না।
খিদিরপুরের বাসিন্দা তথা ওই গোডাউন নির্মাণের প্রোমোটার আসগর হোসেইনের দেহ পাওয়া গিয়েছে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে। এছাড়াও দেহ মিলেছে সুন্দরবনের বাসন্তীর সাহিল সর্দার (১৭), বিহারের মুঙ্গেরের ঘি কুমার (১৭), তাঁর ভাই মন্নু কুমারকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর মৃত্যু হয়। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা হাসান ইমাম (৪৪) এবং আসানসোলের বাসিন্দা নবীন সিংয়ের দেহ (৪৪)। নবীনের হাতের ট্যাটু দেখে তাঁকে শণাক্ত করেন বাড়ির লোকজন। সপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল গণেশ কালিন্দীকে (৪৫)। তাঁরও মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন ১৯-এক মধ্যে এখনও ৩-৪ জনের অবস্থা গুরুতর।