• তারাতলা বিপর্যয়ে মৃত বেড়ে 15, ধ্বংসস্তূপে এখনও কয়েকজনের আটকে থাকার আশঙ্কা
    eTV Bharat | ২৬ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 26 জুন: তারাতলা কাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল 15 ৷ শুক্রবার ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে দু'জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন ৷ তবে এই দু'জনের পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ ৷ এখনও ধ্বংস স্তুপের নীচে বেশ কয়েক জনের আটকে থাকার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা ৷

    শুক্রবার এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "এখনও কেউ আটকে আছে কি না, এখনই বলা সম্ভব নয় ৷ এটা এনডিআরএফ ও সেনা চূড়ান্ত জানালে, আমি কলকাতা পুলিশকে জানাব ৷"

    তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় মৃত্যুমিছিল আরও দীর্ঘ হল। শুক্রবার ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে আরও দু'জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা ‘ব্রট ডেড’ বলে ঘোষণা করেন। এর ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল 15। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট 33 জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৷

    বুধবার দুপুরে তারাতলার একটি নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ আচমকাই ধসে পড়ে ৷ মুহূর্তের মধ্যে কংক্রিটের বিশাল অংশ, লোহার বিম এবং নির্মাণসামগ্রীর নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক ও কর্মী। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, এনডিআরএফ এবং পরে ভারতীয় সেনাবাহিনী। রাতভর চলে উদ্ধার অভিযান ৷ পরবর্তী সময়ে অত্যাধুনিক যন্ত্র, স্নিফার ডগ, ক্রেন এবং কাটার ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া আহতদের দ্রুত ঘটনাস্থলে তৈরি অস্থায়ী চিকিৎসা শিবিরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এসএসকেএম-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে । চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল আহতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছে ৷ তবে আহতের শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে ৷

    এই ঘটনার পরই রাজ্য প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ করে ৷ তদন্তভার দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে এবং গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "ইতিমধ্যেই গুদাম নির্মাণ এবং পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃতদের মধ্যে দু'জনের বিরুদ্ধে অতীতেও ফৌজদারি মামলার অভিযোগ ছিল ৷" নির্মাণে গাফিলতি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ পুলিশ নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত নথি, অনুমোদনপত্র এবং প্রযুক্তিগত দিকও পরীক্ষা করছে ৷

    এদিকে দুর্ঘটনাস্থলে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে ৷ ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সরানো হচ্ছে, কারণ প্রশাসনের আশঙ্কা এখনও ভিতরে কেউ আটকে থাকতে পারেন। বৃষ্টি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটলেও অভিযান থামানো হয়নি।

    এখনও যাঁদের পরিচয় জানা যায়নি, তাঁদের শনাক্ত করতে পুলিশ বিভিন্ন থানার নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা, আঙুলের ছাপ, ছবি এবং অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে ৷ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরিয়ে নিশ্চিত না-হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান বন্ধ করা হবে না। একই সঙ্গে এই বিপর্যয়ের জন্য কারও গাফিলতি বা আইনভঙ্গ প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • Link to this news (eTV Bharat)